ছবির প্রচারে এখন অনেক তারকাই উপস্থিত হন পডকাস্টে। সেখানে কাজের কথার পাশাপাশি উঠে আসে ছোটবেলার স্মৃতি, কেরিয়ারের ওঠাপড়া, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা কথা। কিন্তু বার বার একই গল্প বলতে আর ভাল লাগছে না মনোজ বাজপেয়ীর। পডকাস্টে গিয়ে নিজের অতীতের কথা বলতে বলতে বিরক্ত অভিনেতা। বিশেষত নিজের শৈশবকেই অপছন্দ করতে শুরু করেছিলেন একদা। তাই আর সেই সময়ের কথা বলতে ভাল লাগে না।
এক অনুষ্ঠানে পডকাস্ট নিয়ে নিজের বিরক্তির কথা খোলাখুলি জানান মনোজ। তাঁর কথায়, “এখন আর পডকাস্ট করি না। ছোটবেলার কথা বলতে বলতে আমি ক্লান্ত। এমন অবস্থা হয়েছিল যে, নিজের ছোটবেলাকেই ঘৃণা করতে শুরু করেছিলাম। কেন একটা গ্রামে জন্মালাম? কেন আমার জীবনের পথটা এত দীর্ঘ হল? এ সব মনে হতে লাগল।”
মনোজের জীবনের লড়াই অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। কিন্তু সেই পথ পেরিয়ে আসার সময়ে কতটা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তা-ও মনে করিয়ে দিয়েছেন মনোজ। তাঁর কথায়, “আপনারা হয়তো ভাবেন, আমি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শেখাতে চাইছি। কিন্তু আমার সেই উদ্দেশ্য কখনও ছিল না।” খানিক রসিকতা করেই তিনি বলেন, “আমিও তো দিল্লিতে জন্মাতে চেয়েছিলাম। তা হলে অন্তত মুম্বই পর্যন্ত আসার লড়াইটুকুই করতে হত।”
এর পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা বলেন, “গ্রামে জন্মেছিলাম বলে মুম্বই পৌঁছোতে অগুন্তি বাস পাল্টাতে হত। কে আর এমন জীবন চায়? এখন সবাই আমার এই সফরকে অনুপ্রেরণার গল্প বলে। কিন্তু যখন বাস্তবে সেই পথ দিয়ে যেতে হয়, তখন বোঝা যায়, আসলে সেটা কত কঠিন। পাঁচ দিন টাকা ছাড়া বেঁচে থাকার চেষ্টা করুন, এই জীবনকে রোমান্টিসাইজ় করার সব শখ মিটে যাবে।”
বিহারের এক ছোট্ট গ্রামে কৃষক পরিবারে জন্ম মনোজের। কিশোর বয়স থেকেই পরিবারের আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়তে হয়েছে তাঁকে। অভিনয়জগতে নিজের জায়গা তৈরি করতেও কম বাধা পেরোতে হয়নি। আজ সেই সংগ্রামের কাহিনিই বার বার উঠে আসে নানা সাক্ষাৎকারে। কিন্তু অভিনেতার বক্তব্য, অতীত নিয়ে একই কথা বার বার বলতে বলতে তিনি ক্লান্ত।
