নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য বৃহৎ পরিসরের ১৫টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ২০২৬-এ এসব প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। ফোরামে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ১০০ অংশগ্রহণকারীর সামনে অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতের বিভিন্ন প্রকল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
সংস্থাটি গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত সোমবার ফোরামের ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ : দ্য বিলিয়ন-ডলার অপরচুনিটি হাইডিং ইন প্লেইন সাইট’ শীর্ষক অধিবেশনে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পগুলোর তথ্য উপস্থাপন করেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য ও বিনিয়োগ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি। বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পগুলোর তালিকায় রয়েছে সরকারি জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) অবকাঠামো, প্রস্তাবিত চট্টগ্রাম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, বন্দর সুবিধা এবং মাতারবাড়ী গ্রিন ডকইয়ার্ড। পাশাপাশি ইলেকট্রনিকস, উন্নত প্রযুক্তির বস্ত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতেও বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়।
নাহিয়ান রহমান রচি জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোতে কীভাবে অংশ নেওয়া যাবে, সে বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দর ও ড্রাই ডক খাতে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখতে আগ্রহ দেখিয়েছেন আঞ্চলিক অংশীদারেরা। তিনি বলেন, এসব বিনিয়োগ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও জানান, পরবর্তী আলোচনাগুলোতে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ এবং বিনিয়োগকারী, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও অর্থায়নকারী অংশীদারদের একত্র করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ফোরামের প্রথম দিনে জ্বালানি রূপান্তরের অগ্রাধিকারগুলোকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপ দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী পর্যায়ের এক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি জানান, কয়েকটি সংস্থাকে একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠনের ফলে বিনিয়োগকারী শনাক্তকরণ, প্রকল্পের স্থান প্রস্তুতকরণ, নীতিগত সমন্বয় এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) কাঠামো প্রণয়নের কাজ একই প্ল্যাটফর্মের আওতায় এসেছে। এর ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।
আশিক চৌধুরী অব্যবহৃত সরকারি জমিতে প্রস্তাবিত সোনাগাজী সৌরবিদ্যুৎ পিপিপি প্রকল্প নিয়েও আলোচনা করেন। একই ধরনের অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়নে এটি একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পৃথক এক মন্ত্রী পর্যায়ের বিনিয়োগবিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে বিনিয়োগের উন্নয়নমূলক প্রভাবকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডকে (ইউএনসিটিএডি) সফল বিনিয়োগের উদাহরণ তুলে ধরার পাশাপাশি বিনিয়োগ নিশ্চয়তা ও রপ্তানি ঋণব্যবস্থার আদলে ঝুঁঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দেন আশিক চৌধুরী।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের আয়োজনে এবং কাতার সরকারের আতিথেয়তায় ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত দোহায় অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ২০২৬। এই ফোরামে যোগদানের পাশাপাশি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। সংস্থাটির কর্মসূচিতে বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত ছিল।