Published on
:
2 min read
কৌশিক দে, মালদা
মাত্র তিন ফুটের কংক্রিটের রাস্তা। টোটো ঢুকলেও অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল বা পুলিশের গাড়ি ঢোকার কোনও উপায় নেই। চওড়া রাস্তা না থাক, তাতে কী! মালদার ইংরেজবাজারের অভিরামপুরে একের পর এক ফ্ল্যাট গড়ে উঠছে। অনেক ফ্ল্যাটে আবার নির্মাণ শেষ। বসবাস শুরু করেছেন অনেকে। যদি এ সব ফ্ল্যাটে আগুন লাগে? অন্য কোনও বিপদ ঘটে? উদ্ধার কাজ কী ভাবে করবে প্রশাসন?
ইংরেজবাজারের অলিগলিতে ফ্ল্যাট তৈরির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন শহরের নাগরিকদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, ইংরেজবাজার পুরসভার মদত ছাড়া কী করে সম্ভব? অভিযোগকারীদের সঙ্গে একমত দমকল দপ্তরের মালদা ডিভিশনের এক আধিকারিক। তিনি বলেন, 'শহরে ফ্ল্যাট গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রথমেই দমকলের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু দমকল বিভাগকে প্রোমোটাররা পাত্তাই দেন না। পুরসভার অনুমতি পেলেই বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করে দেওয়া হয়।' তিনি জানিয়েছেন, তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের পরে ইংরেজবাজারে অন্তত ৪০টি আবাসন কর্তৃপক্ষ, প্রোমোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইংরেজবাজার শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁধরোড, অভিরামপুর এলাকার একাধিক গলি রয়েছে। সেখানকার জমির দাম বর্তমানে আকাশছোঁয়া। চিকিৎসকদের বাড়ি, নার্সিংহোম, ওষুধের দোকান, বাজার, বিভিন্ন শপিং মল থাকায় যোগাযোগের সুবিধার জন্য অলিগলিতে একাধিক ফ্ল্যাট গড়ে উঠেছে। বাঁশবাড়ি থেকে বিবেকানন্দপল্লি, রামকৃষ্ণপল্লি থেকে রামনগর কাছারি, সুভাষপল্লি থেকে কৃষ্ণপল্লি, মালঞ্চপল্লি, দেশবন্ধুপাড়া, সিঙ্গাতলা, বিবিগ্রাম, পিরোজপুর-সহ শহরের একাধিক অলিগলিতেই অসংখ্য ফ্ল্যাট রয়েছে। কোথাও তৈরির কাজ চলছে। কোথাও আবার শেষ। মানিকচক, ভুতনি, বৈষ্ণবনগর এলাকার যাঁরা সরকারি কর্মচারী বা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, তাঁরা বন্যার জেরে ভিটেমাটি হারিয়ে শহরে এসে ব্যাঙ্ক ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছেন। বৈধ না অবৈধ তা তাঁরা খতিয়ে দেখছেন না বলে অভিযোগ। যে গলি দিয়ে কোনও রকমে টোটো চলাচল করতে পারে, সেখানে কী ভাবে বড় বড় ফ্ল্যাটের অনুমতি দিচ্ছে পুরসভা?
ইংরেজবাজার পুরসভার বর্তমান পুরপ্রধান তথা বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ী বলেন, 'তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড অনেক অনিয়ম করেছে। একের পর এক ফ্ল্যাট গড়ে উঠেছে শহরের আনাচে-কানাচে এটা সত্যি। বিরোধীদলে থাকার সময়ে অনেক প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু কোথাও কোনও কাজ আটকায়নি।' এ বার নতুন করে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তৃণমূেলর প্রাক্তন উপপুরপ্রধান সুমালা আগরওয়ালার দাবি, 'সবকিছুই নিয়ম মেনে করা হয়েছে। কোনও বেআইনি কাজ হয়নি।' অতিরিক্ত জেলাশাসক ভাস্কর মজুমদার বলেন, 'অলিগলিতে ফ্ল্যাট তৈরির অভিযোগ এসেছে। পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা কোথায় কতটা তদারকি করে দেখেছেন, সেটা তদন্ত করে দেখা হবে।'