স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার দৌলতখানে এক তরুণ হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, রিমান্ডের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রবাসীর স্ত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম জাফর, যিনি দৌলতখান থানায় উপ-পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত এবং আলোচিত ‘লিটন হত্যা মামলা’র তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও)।
অভিযোগ মতে, লিটন হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে শাহাবুদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে ফাঁসানো ও রিমান্ডে নেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন এসআই জাফর। একই সাথে, শাহাবুদ্দিনের বড় ভাই (মালয়েশিয়া প্রবাসী নুরুদ্দীন)-কে ফোন দিয়ে তার স্ত্রীকে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ‘পাঠানোর’ অনৈতিক প্রস্তাবসহ নানাভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী জানান, মামলার ভয় দেখিয়ে এসআই জাফর তাকে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার জন্য বারবার চাপ দিতেন। এ ঘটনায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
শুধু আসামিপক্ষই নয়, মামলার বাদী ও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। নিহত লিটনের স্ত্রী ও মামলার বাদী হারুন জানান, মামলার খরচের কথা বলে এসআই জাফর তাদের কাছ থেকেও প্রায় ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে টাকার বিনিময়েও মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি। নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এসআই জাফর আসামিদের বাড়িতে গিয়ে তাদের সাথে গোপনে কথা বলে চলে আসেন।” তারা অবিলম্বে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসআই জাফর নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষকে আটক করে থানায় দু-একদিন রেখে চাহিদা অনুযায়ী টাকা আদায় করে তারপর ছেড়ে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই জাফরের বক্তব্য জানতে দৌলতখান থানায় অন্তত ছয়বার যোগাযোগ করা হলেও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনে (০১৭১৬৬৩০৪০৭) একাধিকবার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি; বরং সাংবাদিকের নম্বরটি ব্লক করে দেন। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনায় সুবিচারের দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-র কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
এ বিষয়ে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফকরুল ইসলাম জানান, “অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষী পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”