নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় ক্যামেরা, ব্যাটারি, নকশা কিংবা স্টোরেজের দিকে নজর দেন অনেকেই। তবে ফোনের সামগ্রিক কার্যক্ষমতা কেমন হবে, তার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে প্রসেসর। গেম খেলা, ভিডিও সম্পাদনা, একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারে ফোন কতটা সাবলীল থাকবে, তার ওপর প্রসেসরের প্রভাব রয়েছে।
বাজারে স্মার্টফোনের প্রসেসর নিয়ে আলোচনায় প্রায়ই আসে দুটি নাম-মিডিয়াটেক ও স্ন্যাপড্রাগন। কিন্তু কোনটি ভালো? কম দামে ভালো ফোন চাইলে কোনটি বেছে নেওয়া উচিত? আর গেমিংয়ের জন্যই বা কোন প্রসেসর বেশি উপযোগী?
মিডিয়াটেক: বাজেটের মধ্যে ভালো কার্যক্ষমতা
মিডিয়াটেকের ডাইমেনসিটি সিরিজের প্রসেসর বিভিন্ন দামের স্মার্টফোনে ব্যবহৃত হয়। সাশ্রয়ী ও মাঝারি দামের ফোনে ভালো কার্যক্ষমতা এবং ফাইভ-জি সংযোগের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ সিরিজের প্রসেসরগুলো উল্লেখযোগ্য। যাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ভিডিও দেখা, অনলাইন সভা, ছবি তোলা কিংবা একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানোর জন্য ফোন কিনতে চান, তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী মিডিয়াটেকের প্রসেসরযুক্ত ফোন ভালো বিকল্প হতে পারে।
স্ন্যাপড্রাগন: গেমিং ও ভারী কাজের জন্য
কোয়ালকমের তৈরি স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর স্মার্টফোনের বিভিন্ন শ্রেণিতে ব্যবহৃত হয়। এর উচ্চক্ষমতার মডেলগুলো গ্রাফিকসনির্ভর গেম, ভিডিও সম্পাদনা এবং ভারী অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভালো কার্যক্ষমতা দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘ সময় গেম খেলেন কিংবা ফোনে ভারী কাজ করেন, তাঁদের জন্য প্রসেসরের গ্রাফিকস ক্ষমতা, তাপ নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘ সময় ধরে কার্যক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
তবে স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরযুক্ত হলেই ফোনটি সব ক্ষেত্রে ভালো হবে, এমন নয়। ফোনের শীতলীকরণব্যবস্থা, র্যাম, সফটওয়্যার এবং নির্মাতার অপ্টিমাইজেশনও কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।
কোন প্রসেসর আপনার জন্য উপযোগী?
মিডিয়াটেক ও স্ন্যাপড্রাগনের সমমানের প্রসেসরযুক্ত ফোনের দাম ও কার্যক্ষমতা তুলনা করুন। কম দামে ভালো কার্যক্ষমতার ফোন পেলে সেটিই হতে পারে উপযুক্ত পছন্দ। শুধু প্রসেসরের নাম নয়, নির্দিষ্ট চিপসেটের গ্রাফিকস ক্ষমতা, গেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং দীর্ঘ সময় খেলার পর ফোন কতটা গরম হয়, তা যাচাই করুন।
স্মার্টফোন কেনার আগে যে পাঁচটি বিষয় দেখবেন
১. প্রসেসরের সঠিক মডেল: শুধু মিডিয়াটেক বা স্ন্যাপড্রাগন নাম দেখে নয়, চিপসেটের পূর্ণ মডেল ও প্রজন্ম যাচাই করুন।
২. বাস্তব কার্যক্ষমতা: সম্ভব হলে ফোনটির গেমিং, অ্যাপ চালানো এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের পর্যালোচনা দেখুন।
৩. ব্যাটারি ও তাপ নিয়ন্ত্রণ: শক্তিশালী প্রসেসর থাকলেও ফোন অতিরিক্ত গরম হলে কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
৪. সফটওয়্যার হালনাগাদ: কত বছর নিরাপত্তা ও অপারেটিং সিস্টেমের হালনাগাদ পাওয়া যাবে, তা জেনে নিন।
৫. দাম ও অন্যান্য সুবিধা: একই দামের একাধিক ফোনের ক্যামেরা, পর্দা, র্যাম, স্টোরেজ ও ওয়ারেন্টি তুলনা করুন।
মিডিয়াটেক মানেই কম দামের প্রসেসর আর স্ন্যাপড্রাগন মানেই সেরা গেমিং-এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। দুই নির্মাতারই বিভিন্ন ক্ষমতা ও দামের প্রসেসর রয়েছে। তাই ফোন কেনার সময় ব্র্যান্ডের বদলে নির্দিষ্ট প্রসেসরের মডেল এবং ফোনটির সামগ্রিক সক্ষমতা বিবেচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: প্রযুক্তি
১ ঘন্টা আগে
২ ঘন্টা আগে
২ ঘন্টা আগে
