আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্গাপুজোর সময় কয়েকজন জুনিয়র চিকিৎসক, ইন্টার্ন, হাউস স্টাফ এবং স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণার্থী (পিজিটি) হাসপাতালের ডিউটির শিফট টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছেন। প্রতি ঘণ্টার ডিউটি ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে অভিযোগ। সোমবার এই তথ্য ফাঁস করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখার্জি। তিনি জানান, ১৭ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে টাকার বিনিময়ে ডিউটি কেনাবেচা সংক্রান্ত অনিয়মগুলো ধরা পড়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, "দুর্গাপুজোর সময় আমরা সতর্ক ছিলাম। ১৭ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টার ডিউটির দর ছিল ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। প্রতি ঘণ্টার ডিউটিই বিক্রি করা হচ্ছিল।"
ডা. শারদ্বত মুখার্জি-র অভিযোগ করেন যে, এই প্রবণতা কেবল কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কেপিসি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও সেখানে একাধিকবার ডিউটি করতে এসেছিল, আবার বাইরে প্র্যাকটিস করা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও ইন্টার্ন সেজে ডিউটি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, গত চার বছর ধরে এই ধরনের বেআইনি কাজ চলছে এবং এর সঙ্গে কিছু জুনিয়র ডাক্তার, ইন্টার্ন, হাউস স্টাফ ও পিজিটি জড়িত। তিনি মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজের একটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে একজন নিজেকে ডেন্টাল কলেজের ছাত্র বলে পরিচয় দিয়েছিল। শারদ্বত বাবু সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওই ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে ডিউটি করতে এসেছিলেন।
শারদ্বত মুখার্জি হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে ওই শিক্ষার্থীর চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি আরও জানান, অনেক সময় অনিনথিভুক্ত চিকিৎসকরাও ডিউটি করতে এসেছেন। মন্ত্রীর অভিযোগ, মেডিকেল কলেজগুলোতে “ডিউটির সময় বিক্রির” জন্য আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছিল এবং স্বাস্থ্য ভবন (স্বাস্থ্য দপ্তরের সদর দপ্তর) সেগুলোর ওপর নজর রেখেছিল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "আমরা ইন্টার্ন, হাউস স্টাফ এবং পিজিটি-দের বলছি, তাঁরা যেন এসব থেকে সরে আসে, কোনও বেআইনি কাজ না করে। তাঁদের নিয়ম মেনে চলা উচিত। আমরা এখনই কোনও কঠোর পদক্ষেপ করছি না, শুধু তাঁদের সতর্ক করছি যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।" স্বাস্থ্য ভবনই এই অনিয়মগুলো উদঘাটন করেছে বলে দাবি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখার্জি।।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তার নেতৃত্বে থাকা প্রবীণ চিকিৎসকদের মধ্যে ডা. শারদ্বত মুখার্জি-ও ছিলেন। সেই ঘটনার জেরে জুনিয়র ডাক্তাররা দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চালিয়েছিলেন। সেই সময়ে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোতে অসদাচরণ এবং এক ধরনের “ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি” (থ্রেট কালচার)-এর অভিযোগও সামনে এসেছিল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখার্জি বলেন, “যারা আগে ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতিকে উসকে দিত, তাদের জায়গায় এখন নতুন কিছু নাম উঠে এসেছে। দয়া করে এই ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিন... এই সংস্কৃতিকে আর মাথাচাড়া দিতে দেবেন না।”
