শান্তিপূর্ণ লংমার্চ বাস্তবায়নে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা
১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি আদায়ে বিরোধী দলের আন্দোলন জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন।
১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি আদায়ে বিরোধী দলের আন্দোলন জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের দাবি নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন।
গতকাল সোমবার ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান ও পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মোবারক হোসাইন। সাক্ষাৎকালে লংমার্চের প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনের সহযোগিতা ও সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে মোবারক হোসাইন বলেন, ১১ দল যে সাত দফা দাবি নিয়ে লংমার্চ শুরু করেছে, তা কেবল ১১ দলের দাবি নয়; বরং ১৮ কোটি মানুষের দাবি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধানে এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক বিষয় নয়; বরং সরকার, বিরোধী দল এবং সর্বোপরি জনগণের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মোবারক হোসাইন আরও বলেন, আগের লংমার্চ কর্মসূচিগুলোতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, জনগণ তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ। আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চেও ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করে দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এসব বিষয়ে জনমতের প্রতিফলন ঘটানো সরকারের দায়িত্ব।
লংমার্চের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট মহলের সামনে তুলে ধরা এবং সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চাপ সৃষ্টি করাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য। কর্মসূচি সফল করতে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
মোবারক হোসাইন বলেন, শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল উপায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নে আয়োজকরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনসাধারণের চলাচল, নিরাপত্তা ও সার্বিক শৃঙ্খলার বিষয় বিবেচনায় রেখেই কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবু সাদিক, কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আলী মহসিন, সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, মুফতি আমির হামজা, মো. আফজাল হোসেন, মো. রুহুল আমিন, মো. মাসুদ পারভেজ এবং জেলা সেক্রেটারি এনামুল হকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
