আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের পর্দাফাঁস হতে চলেছে পাকিস্তনের। প্যারিসে আয়োজিত হতে চলা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারত। যেখানে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদতের তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে তুলে ধরা হবে, রাষ্ট্রসংঘের তরফে ঘোষিত জঙ্গি জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ কোনও পদক্ষেপ করেনি বরং তাকে খোলা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি।
২৮ অক্টোবর থেকে প্যারিসে শুরু হচ্ছে এফএটিএ-র প্লেনারি বৈঠক। এখানে যোগ দিচ্ছেন ২০০টির বেশি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন এফএটিএ-র সভাপতি গিলস থমসন। এখানে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে চলেছে ভারত। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ আসলে পুরোটাই ভাঁওতা। রাষ্ট্রসংঘের তরফে ঘোষিত জঙ্গি মাসুদ আজহার পাকিস্তানেই রয়েছে। অথচ তাঁকে নাকি খুঁজে পাচ্ছে না ইসলামাবাদ। এই জঙ্গি ২০০১ সালে সংসদ হামলা, ২০১৯ সালে পুলওয়ামা-সহ ভারতের মাটিতে একাধিক জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড।
ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ আসলে পুরোটাই ভাঁওতা। রাষ্ট্রসংঘের তরফে ঘোষিত জঙ্গি মাসুদ আজহার পাকিস্তানেই রয়েছে।
পাকিস্তান ২০২১ সাল থেকে দাবি করে আসছে মাসুদ আফগানিস্তানে পালিয়েছে। অথচ সেপ্টেম্বরে তালিবান মুখপাত্র জিয়া আহমদ থকাল প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, এই জঙ্গি আফগানিস্তানে নেই এবং এ নিয়ে পাকিস্তান তাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগও করেনি। অথচ বিশ্বকে বোকা বানাতে ২০২৬ সালে পাকিস্তান মাসুদকে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত করেছে। যেখানে মাসুদকে খুঁজে দিলে পুরস্কারের মূল্য ৫০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ করা হয়েছে। অবশ্য ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের এই আড়ম্বরকে পুরোপুরি ভাঁওতা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এরা জানে মাসুদ কোথায় রয়েছে। মিথ্যাচারিতা না করে ওরা গ্রেপ্তার করুক।
এদিকে ভারতের গোয়েন্দা সূত্রের খবর, মাসুদ আজহার পাকিস্তানেই রয়েছে। সেখানকার সিন্ধু প্রদেশের নবাবশাহ শহরে লুকিয়ে রয়েছে ভয়ংকর এই জঙ্গি। তাও আবার আইএসআইয়ের নিরাপত্তায়। ভারতের লক্ষ্য, ইসলামাবাদের মিথ্যাচার ফাঁস করে সন্ত্রাসের মদতদাতা পাকিস্তানকে আবার এফএটিএসের ধূসর তালিকায় ঢোকানো। উল্লেখ্য, ২০১৮-২০২২ সাল পর্যন্ত এফএটিএসের ধূসর তালিকাতেই ছিল পাকিস্তান। ২০২২ সালে সেখান থেকে বেরিয়ে এলেও এখনও নজরদারিতেই রয়েছে দেশটি। এই বৈঠকে ভারতের তরফে তথ্য-প্রমাণ পেশ হলে ফের ধূসর তালিকাভুক্ত হতে পারে শাহবাজের দেশ।
