ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পর্যটন খাতের বিকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশে মাল্টার অনারারি কনসাল শোয়েব চৌধুরী। একইসঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সফরের জন্য মাল্টার রাজধানী ভাল্লেত্তার মেয়র ওলাফ ম্যাকাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। মেয়র ওলাফ ম্যাকাইও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মাল্টার ভাল্লেত্তায় অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তাদের মধ্যে এসব বিষয়ে কথা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে মেয়র ওলাফ ম্যাকাই ভ্যালেটার ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আধুনিক নগর হিসেবে শহরটির বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ১৯৮০ সালে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পাওয়া ভ্যালেটার ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি শহরটিকে আধুনিক ও গতিশীল নগর হিসেবে গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
আন্তর্জাতিক পরিসরে মাল্টার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনার কথাও জানান মেয়র।
বৈঠকে শোয়েব চৌধুরী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ভাল্লেত্তার ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিশ্বের মানুষের কাছে আরও সহজে তুলে ধরা সম্ভব। ভার্চ্যুয়াল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটকেরা ঘরে বসেই শহরটির ঐতিহাসিক স্থান ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার মাল্টা ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় শোয়েব চৌধুরীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ভ্যালেটার মেয়র সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে ভ্যালেটা লোকাল কাউন্সিলের নির্বাহী সচিব গ্যাব্রিয়েলা অ্যাজোপার্দি এবং শোয়েব চৌধুরীর সহধর্মিণী ও দ্য এশিয়ান এজ-এর প্রধান সম্পাদক ড. জেসমিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে দুই পক্ষের মধ্যে শুভেচ্ছা স্মারক ও উপহার বিনিময় হয়। এ সময় ভ্যালেটার মেয়র শোয়েব চৌধুরীর হাতে শহরটির একটি বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
এসআই/এমএসএ
