সাদ্দাম হোসেন, ঠাকুরগাঁও
আপডেট :
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ০৮

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোটগ্রহণ সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে প্রচারে সরব ছিলেন প্রার্থীরা। আসনটিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের ফলাফলে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা। অন্যদিকে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়। এর আগে সোমবার প্রচারের শেষ দিনে প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও জনসভা করেন। সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকার ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে দিনভর তৎপরতা চালান তাঁরা।
ভোটের সমীকরণে সংখ্যালঘু ভোটার
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১১ হাজার ৬২৯ জন। তাঁদের মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার। এ কারণে নির্বাচনে তাঁদের ভোটের অবস্থান নিয়ে আগ্রহ রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে।
আসনটিতে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ) ও ১১-দলীয় জোট-সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের (দাঁড়িপাল্লা) মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
শহরের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় ভোটের সম্ভাব্য ফল নিয়ে চলছে আলোচনা। বিশেষ করে হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোট কোন প্রার্থীর পক্ষে যায়, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে, সদর উপজেলার ধন্দগাঁও ও পূর্ব বেগুনবাড়ি বিডি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার মতো হিন্দু-অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে আগের নির্বাচনে বিএনপির উল্লেখযোগ্য সমর্থন ছিল। এবার সেই সমর্থন ধরে রাখতে চাইছে দলটি। অন্যদিকে, এসব এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে প্রচার চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামীও।
দুই দলের প্রার্থীর পক্ষ থেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রকৃত পছন্দ ও ভোটের প্রবণতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের পর।
শেষ দিনে প্রার্থীদের গণসংযোগ
প্রচারের শেষ দিনে গতকাল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন রুহিয়া উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের চতুরাখোর গ্রাম থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। পরে কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।
জনসভায় ফয়সল আমীন তাঁর বড় ভাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সময়কার উন্নয়ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, হাসপাতাল সম্প্রসারণ, বন্ধ বিমানবন্দর চালু এবং ইপিজেড স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান তিনি।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন সদর উপজেলার গড়েয়া, মোলানী ও জগন্নাথপুর এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন। এ সময় তিনি ভোটারদের সজাগ থাকার পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যেও নির্বাচনী তৎপরতা দেখা গেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খাদেমুল ইসলামের (হাতপাখা) পক্ষে শহরের আর্ট গ্যালারি মোড়ে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী আবদুল আলীম নিজামীর (বটগাছ) পক্ষে কয়েকটি এলাকায় মাইকিং করা হয়। তবে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুকের (ডাব) প্রচার তুলনামূলকভাবে চোখে পড়েনি।
২১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
নির্বাচনের পরিবেশ শান্ত রাখতে জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ৩০ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপরও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তায় পুরো এলাকায় ২১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি বিজিবির কে-৯ ডগ ইউনিট ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, ভোটাররা যাতে ভয়ভীতি ছাড়াই কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সংখ্যালঘু ভোটারদের অবস্থান এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী এগিয়ে থাকবেন, তা নির্ভর করবে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও ভোটের ফলাফলের ওপর।

