চট্টগ্রামের পটিয়ায় অন্য ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহ ও মুঠোফোনে কথা বলা নিয়ে বিরোধের জেরে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা করেন স্বামী। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার বোন ও বোনের জামাইসহ আরও তিনজন। আদালতের সামনে এসব কথা স্বীকার করেন ঘাতক স্বামী নূর উদ্দিন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। এ ঘটনায় স্বামী ও নিহতের ননদ জোৎস্না আক্তারকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অন্য আসামিরা এখনো পলাতক।
পুলিশ জানায়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নূর উদ্দিন (২৩) বলেছেন, দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে স্ত্রীকে ধাক্কা দিলে তিনি দেয়ালে লেগে মেঝেতে পড়ে যান। পরে তার গলা চেপে ধরার কথাও স্বীকার করেন তিনি। তবে হত্যাকাণ্ডে অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততা এবং প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই এলাকার মোনাফ হাজীর পাড়ায় স্বামীর বসতঘরের শয়নকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পটিয়া থানা-পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে তানিয়াকে তার স্বামী নূর উদ্দিন, ননদের স্বামী মো. খোকন (৪২), ননদ জোৎস্না আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজন মিলে হত্যা করেছেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
নিহতের বাবা মো. কামালের পক্ষ থেকে এজাহার পাওয়ার পর মঙ্গলবার পটিয়া থানায় হত্যা মামলাটি করা হয়। মামলায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযান চালিয়ে সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিহতের স্বামীর বাড়ি থেকে নুর উদ্দিন ও জোৎস্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার নুর উদ্দিনকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দেন। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পটিয়া থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এএইচ
