শুভেন্দু অধিকারীANI
Published on
:
2 min read
এই সময়, তমলুক: দলের তমলুক সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ের ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানেও রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে বিরত থাকলেন না মুখ্যমন্ত্রী। আসন্ন হলদিয়া পুরসভার নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'এখানে বউনি করতে দেবো না। লিখে রাখুন আমার নাম করে, জনগণ আমার সঙ্গে আছে।'
২০২২-এ হলদিয়া পুরসভার মেয়াদ ফুরালেও আর নির্বাচন হয়নি। বর্তমানে পুর-প্রশাসক নিযুক্ত রয়েছেন। আসন পুনর্বিন্যাসে পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০। জল্পনা নভেম্বরে পুরভোট শিল্পশহরে। তবে দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও বিরোধীদের রুখতে বিজেপি প্রস্তুত বলে এ দিন ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, 'আমরা ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটে আমাদের নেত্রী হাসিরানি রথকে নির্বাচিত করতে পেরেছি।' পুরভোট নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, 'একদম শূন্য করে দিতে হবে।'
তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, '৩০টা আসনের ৩০টাতেই জিতে একদম বাটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠাতে হবে খালি হাতে। অনেক ক্ষতি করে দিয়েছেন আমাদের, যাতে আর কোনও ক্ষতি করতে না পারেন।' অনুষ্ঠানে কর্মী -সমর্থকদের রাষ্ট্রবাদ ও দেশপ্রেমের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, 'আপনারা সবাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে থাকুন। ঐক্যবদ্ধ থাকবেন এবং খুব সতর্ক থাকবেন। যাতে দিমাগী নকশাল, টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি এবং আরশোলা-ছারপোকারা বংশবিস্তার করতে না পারে।' শুভেন্দুর কটাক্ষ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ও দলের জেলা নেতা অখিল গিরিকে বার বার ফোন করা হলেও তাঁর মোবাইল সুইচ অফ পাওয়া যায়।
সোমবার তমলুকের কাকগেছিয়ায় ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বলেন, 'আমাদের কাছে এই পার্টি অফিস মন্দিরের মতো। এই কার্যালয়ে দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, ছাত্রছাত্রী, যুবসমাজ এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরাও আসবেন। তাঁদের সামনে জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ব্যবস্থা করা হবে।' তিনি জানান, কার্যালয়ে একটি উন্নতমানের লাইব্রেরি ও রিডিং রুম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে জনসংঘ থেকে বিজেপির উত্থান, দলের বিশিষ্ট নেতাদের জীবনী ও বক্তব্য, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ইতিহাস সংরক্ষণ করা হবে। দেশভাগের ইতিহাসও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার কথা বলেন তিনি। কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের থাকারও ব্যবস্থা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমিও এখানে মাঝে মাঝে রাত্রিযাপন করতে চাই। আমিও সর্বক্ষণের একজন সমাজকর্মী, রাজনৈতিক কর্মী।'
নতুন কার্যালয় নির্মাণ প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানান, জমিটি অনেক আগেই বিজেপির তরফে কেনা হয়েছিল। তবে জমির কনভার্সন, মিউটেশন ও নির্মাণের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের সরকার প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেয়নি। পরিবর্তনের পরে প্রশাসনিক দফতরগুলি নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করায় নিয়ম মেনে অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে।
বিজেপির বিরুদ্ধে টাকা ও ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের যে অভিযোগ তৃণমূল তুলেছিল, তা উড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, 'উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) তো ৮০ জনকে বিধায়ক পদে জিতিয়েছিলেন, ধরে রাখতে পারেননি। তার দায় কি আমার? ২৯ জনের মধ্যে ২৮ জন এমপি ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ২০ জনকে ধরে রাখতে পারেননি। ওঁর সবচেয়ে বড় অনুগামী ফিরহাদ হাকিম বলছেন, উনি ভক্তদের থেকে রক্তকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ফিরহাদ হাকিম কি বিজেপির নেতা না আমাদের স্পোকস পার্সন?'
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন দুই প্রতিমন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরা, অশোক দিন্দা। এছাড়াও তমলুক সাংগঠনিক জেলার একাধিক বিধায়ক, জেলা সভাধিপতি বামদেব গুছাইত, তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় সিনহা প্রমুখ।