পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ মানুষের বসবাস। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত হচ্ছে না।
চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি, উন্নত সড়ক, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নানা ক্ষেত্রে মানুষের প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। বছরের পর বছর নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পাওয়ায় জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
চিকিৎসাসেবায় ভোগান্তি, ভরসা কোথায়?
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের দাবি দীর্ঘদিনের। ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য প্রায় ৩১ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হয়নি। প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় স্বাস্থ্যসেবার মান ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে, চিকিৎসক ও জনবলসংকট, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সীমাবদ্ধতা এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব রোগীদের ভোগান্তি বাড়াতে পারে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যেতে হলে সময় ও অর্থ—দুটিই ব্যয় হয়। প্রশ্ন হলো, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসার চাহিদা পূরণে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কোথায়?
বিশুদ্ধ পানির সংকট, জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। অথচ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা, পানির উৎসের মান এবং সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে মানুষের অভিযোগ রয়েছে। কোথাও পানির সংকট, কোথাও সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটি—এমন সমস্যায় পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা না থাকলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই নিরাপদ পানির উৎস নিশ্চিত করা, অকেজো নলকূপ ও পানির লাইন মেরামত এবং নিয়মিত পানির মান পরীক্ষা করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন—মঠবাড়িয়ার প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা কবে মিলবে?
সড়ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, দুর্ভোগের শেষ কোথায়?
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। কোথাও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে, কোথাও নির্মাণকাজের ধীরগতিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ভাঙাচোরা সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষকে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হয়। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। সড়ক সংস্কার ও নির্মাণকাজে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে শুধু মানুষের চলাচলই ব্যাহত হয় না, ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্থানীয় অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যও।
বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কতটা স্বস্তি?
বিদ্যুৎ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
অন্যদিকে, পৌরসভা ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে নাগরিক দুর্ভোগ কমানো কঠিন।
শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও তরুণদের ভবিষ্যৎ
একটি উপজেলার উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট বা ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানসম্মত শিক্ষা, কর্মসংস্থান, খেলাধুলার সুযোগ, মাদক প্রতিরোধ এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, খেলাধুলার পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও শিক্ষার মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
উন্নয়ন কোথায়, জবাবদিহি কার কাছে?
মঠবাড়িয়ার মানুষের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। তাঁরা চান—সময়মতো চিকিৎসা, নিরাপদ পানি, চলাচলের উপযোগী সড়ক, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সন্তানদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ।
কিন্তু এসব মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যেসব সরকারি দপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের, তাদের কার্যক্রম কতটা জনবান্ধব? উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ, কাজের অগ্রগতি, সেবার মান এবং অনিয়মের অভিযোগ তদারকিতে কতটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি রয়েছে—সেসব বিষয়ও সামনে আসা প্রয়োজন।
প্রশ্ন একটাই—মঠবাড়িয়ার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ যদি চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি, উন্নত সড়ক ও অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সেবা থেকেই বঞ্চিত হন, তাহলে তাঁদের উন্নয়ন আসলে কোথায়?
এখন প্রয়োজন শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি এবং দৃশ্যমান অগ্রগতি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত উপজেলার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া এবং জনগণের কাছে কাজের অগ্রগতি তুলে ধরা।
মঠবাড়িয়ার মানুষ করুণা নয়, তাঁদের ন্যায্য নাগরিক অধিকার ও মানসম্মত সেবা চান।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
