বাহুবলে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। মাদকের বিস্তার, প্রত্যন্ত এলাকায় জুয়ার আসর, চুরি-ডাকাতি, খুন-রাহাজানি এবং সরকারি মহাল থেকে কোটি টাকার সিলিকা বালু ও গাছ পাচার চলছে প্রকাশ্যে। একই সঙ্গে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো চোরাচালানের নিরাপদ ট্রানজিটে পরিণত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। সম্প্রতি রশিদপুর ও সাতকাপন ইউনিয়নে যুবসমাজের উদ্যোগে চুরি-ডাকাতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের দাবি জানান বক্তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে মাদক। এতে তরুণ সমাজের বড় অংশ বিপথগামী হচ্ছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে রাতের আঁধারে বসছে জমজমাট জুয়ার আসর।
স্থানীয়দের মতে, এসব আসর থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় হওয়ায় তা বন্ধ হচ্ছে না। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসহ বাসাবাড়িতে বাড়ছে চুরি। বিভিন্ন ইউনিয়নে চুরি ও গরু চুরির হিড়িক পড়েছে। রাতের আঁধারে চোরচক্র নিয়ে যাচ্ছে কৃষকের গরু। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালন করছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে বাহুবলের হরিতলা এলাকায় সরকারি মহাল থেকে সিলিকা বালু পাচারের ঘটনায়। স্থানীয়দের দাবি, দিনরাত অ্যাক্সকাভেটর দিয়ে বালু উত্তোলন করে শত শত ট্রাক-ট্রাক্টরে করে পাচার করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব, অন্যদিকে ভারী ট্রাক চলাচলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আঞ্চলিক সড়ক চোরাচালানের নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে আসা অবৈধ পণ্য তথা মাদক, শাড়ি, ফুসকা, চিনি, জিরাসহ মসলা জাতীয় পণ্য ও প্রসাধনী সামগ্রীতে সয়লাব বাহুবলের হাট-বাজার। এ বিষয়ে প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও র্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে জব্দ করছে কোটি কোটি টাকার পণ্য। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা।
অভিযোগ উঠেছে, কোনো সাংবাদিক অপরাধ ও বালু পাচার নিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশাসনের কাছে গেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই সাংবাদিকের নাম-পরিচয় অপরাধীদের কাছে পৌঁছে যায়। এতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং তথ্যদাতাদের নিরাপত্তাও হুমকিতে পড়ছে। এ অবস্থায় সচেতন মহলের দাবি, মাদক-জুয়া, বালু ও গাছ পাচার রোধে দৃশ্যমান অভিযান, অবৈধ বালু পাচার বন্ধ এবং চোরাচালান প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তথ্য ফাঁসের ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন তারা। এ ব্যাপারে ওসি রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো ট্রলারেন্স গ্রহণ করেছে। মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নয়।