৩৪ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৩৪ মিনিট আগে
স্পোর্টস ডেস্ক
জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সোমবার লন্ডনে বসছে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের আসর। বর্ষসেরা ফুটবলারের এই উন্মুক্ত দৌড়ে ত্রিমুখি লড়াই চলছে। বার্তা সংস্থা এএফপির বিশ্লেষণ, লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপেকে পেছনে ফেলে পুরস্কারটি জেতার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
প্রথম ব্যালন ডি'অর জয়ী স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউসের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রথমবারের মতো ফ্রান্স ফুটবলের এই সম্মানজনক আয়োজনের ৭০তম আসর বসছে ইংল্যান্ডে। আর সেই মঞ্চেই দীর্ঘ ২৫ বছর পর প্রথম কোনো ইংলিশ ফুটবলারের হাতে এই ট্রফি ওঠার জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে চমৎকার পারফর্ম করেছেন বায়ার্ন মিউনিখ স্ট্রাইকার কেইন। ৬৫ ম্যাচে করেছেন রেকর্ড ৭৩ গোল। বায়ার্নকে ঘরোয়া লিগ ও কাপ ডাবল জেতানোর পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে নিয়ে গেছেন বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে।৩৩ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘এমন একটা অর্জন সত্যিই আনন্দের হবে। আমার ক্যারিয়ারের জন্য এটা অনেক বড় এক মাইলফলক।’
তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিশ্বকাপ দুটো প্রতিযোগিতাতেই সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ায় কেইনের ট্রফি নিশ্চিত—এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না।
পুরস্কার নিয়ে স্নায়ুচাপে থাকা কেইন বলেন, ‘আমার মনে হয় পরিবার বা স্ত্রী বিষয়টি আগে জানলে ভালো হতো... সবার জন্যই সময়টা বেশ উদ্বেগের। তবে তারা কেন আগে থেকে কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করে না, তা আমি বুঝি। তারা চায় সব বড় তারকারা উপস্থিত থাকুক, আর বিজয়ী অজানা থাকলে অনুরাগী ও দর্শকের আগ্রহও অনেক বেশি থাকে।’গত বছর প্যারিস সেন্ট জার্মেইর উসমান দেম্বেলের পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছিলেন ইয়ামাল। তবে ১৯ বছর বয়সী বার্সেলোনার এই সুপারস্টার কোনদিন ব্যালন ডি’অর জিতবেন, সেটা অনুমিত।
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ক্লাবে গেল মৌসুম পূর্ণতা পায়নি। স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযানে শুরুতে ছিলেন না, পরে প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে পারেননি। স্পেন মূলত বিশ্বকাপ জেতে দলীয় নৈপুণ্যে। ইয়ামালের চেয়ে রদ্রি ও পাউ কুবার্সি ছিলেন নজরকাড়া। রদ্রি হন টুর্নামেন্টের সেরা এবং সেরা উঠতি খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান কুবার্সি।
যদিও গত মাসে ইয়ামাল বলেছিলেন, ‘আমার চোখে আমি আর এমবাপেই এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা দুজন খেলোয়াড়। সততার সঙ্গে বললে, বিশ্বসেরাদের তালিকায় হয়তো আমরা দুজনই আছি এবং অর্জনের দিক থেকে এ বছর পুরস্কারটি আমারই প্রাপ্য।’
অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা ফ্রান্সের হয়ে বড় কোনো ট্রফি না জিতলেও ব্যক্তিগত অর্জনে অনন্য ছিলেন এমবাপেই।
২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন, যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো শিরোপাই জেতা হয়নি তার।
তবে বিশ্বকাপে ১০টি গোল করে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২২ গোলের রেকর্ড গড়ে কিংবদন্তিদের পেছনে ফেলেছেন তিনি।
এমবাপেও নিজেকে সেরার আসনে দেখেন, ‘বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ইতিহাসের সেরা গোলদাতা হওয়া এবং আগের সব কিংবদন্তিদের ছাড়িয়ে যাওয়াটা সত্যিই অনন্য এক অর্জন। আমাকে যদি প্রশ্ন করেন কাকে ভোট দেব, তবে বলব নিজেকেই।’
ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ১০০টি দেশের একজন করে ক্রীড়া সাংবাদিক ৩০ জনের তালিকা থেকে বেছে নেবেন সেরা ১০ জন খেলোয়াড়কে। র্যাঙ্কিং অনুযায়ী প্রথম স্থান পাওয়া খেলোয়াড় পাবেন ১৫ পয়েন্ট এবং এভাবে পর্যায়ক্রমে পয়েন্ট দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে যিনি সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাবেন, তার হাতেই উঠবে বর্ষসেরার ট্রফি।
