তৃতীয় T20-তে অল্পের জন্য এড়াল বড় দুর্ঘটনা।ছবি: AI নির্মিত
Published on
:
2 min read
একটুর জন্য রক্ষা! আর সামান্য এদিক-ওদিক হলেই ঘটে যেতে পারত ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ড্যারিল মিচেলের (Daryl Mitchell) হাঁকানো একটি ছক্কায় আহত হতে পারতেন এক নিরাপত্তারক্ষী। তাঁর মাথার পিছনে অল্পের জন্য লাগেনি বলটি। বিপদের আঁচ পেয়ে শট খেলার পরই চোখ বন্ধ করে ফেলেন মিচেল। ভারত (India) ও নিউ জ়িল্যান্ডের (New Zealand) তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ওয়েলিংটনের মাঠে এই দৃশ্যই চমকে দিয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। তবে মিচেল ও ফিন অ্যালেনের (Finn Allen) ঝোড়ো ব্যাটিংও শেষ পর্যন্ত নিউ জ়িল্যান্ডকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি। ভারতীয় ব্যাটারদের পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জিতে নেয় টিম ইন্ডিয়া।
মিচেলের ছক্কায় অল্পের জন্য রক্ষা নিরাপত্তারক্ষীর
ওয়েলিংটনে তখন ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালাচ্ছিলেন মিচেল ও অ্যালেন। ভারতীয় বোলারদের উপর পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে দ্রুত রান তুলছিলেন নিউ জ়িল্যান্ডের দুই ব্যাটার। তাঁদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে জমে উঠেছিল ম্যাচ। কিন্তু ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই ঘটে যেতে পারত ভয়াবহ ঘটনা। অর্শদীপ সিংয়ের বলে পুল শট খেলেন মিচেল। তাঁর ব্যাট থেকে বেরিয়ে আসা শট প্রচণ্ড গতিতে ছুটে যায় সীমানার দিকে। সেই সময় বাউন্ডারি লাইনের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এক নিরাপত্তারক্ষী দর্শকদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। বলের দিকে তাঁর নজর ছিল না। আর সেই সুযোগেই বিপদ প্রায় ঘনিয়ে আসে। মিচেলের মারা বলটি তাঁর মাথার পিছনে লাগতে পারত। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই গুরুতর চোট পেতে পারতেন ওই নিরাপত্তারক্ষী। এমন কী প্রাণহানির মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটে যেতে পারত।
অল্পের জন্য সেই বিপদ এড়ানো যায়। নিরাপত্তারক্ষীর গায়ে না লেগেই বেরিয়ে যায় বলটি। কিন্তু ঘটনাটি কতটা ভয়াবহ হতে পারত, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি মিচেলেরও। শট খেলার পরই বিপদের আঁচ পেয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলেন তিনি। বলটি যদি নিরাপত্তারক্ষীর মাথায় লাগত, তা হলে কী হতে পারত, সেই আশঙ্কাই যেন ফুটে ওঠে তাঁর প্রতিক্রিয়ায়। ক্রিকেট মাঠে গ্যালারির দিকে ছক্কা উড়ে গেলে দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কিন্তু সীমানার কাছে থাকা নিরাপত্তারক্ষী, বলবয় বা অন্য কর্মীদের ক্ষেত্রে এমন জোরালো শট বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। মিচেলের ছক্কায় অল্পের জন্য দুর্ঘটনা এড়ানোর ঘটনাটি তাই ম্যাচের উত্তেজনার মধ্যেও আলাদা করে নজর কেড়েছে।
মিচেল-অ্যালেনের ঝোড়ো ব্যাটিং, ৪৩ বলে ৮৬ রানের জুটি
শুধু এই ঘটনাই নয়, ব্যাট হাতেও নজর কেড়েছিলেন মিচেল। তাঁর সঙ্গে দারুণ ছন্দে ছিলেন অ্যালেন। দু’জনে মিলে ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৪৩ বলে ৮৬ রান যোগ করেন তাঁরা। তাঁদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকে নিউ জ়িল্যান্ড। মিচেল মাত্র ২০ বলে ৪০ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল একের পর এক বড় শট। অন্য দিকে, অ্যালেনও ২৩ বলে ৪০ রান করে ভারতীয় বোলারদের সমস্যায় ফেলেন। দুই ব্যাটারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে নিউ জ়িল্যান্ডের ইনিংস গতি পায়। একের পর এক বড় শটে রান তোলার পাশাপাশি ভারতকে উইকেটের জন্য অপেক্ষায় রাখেন তাঁরা।
তবে শেষ পর্যন্ত এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙতে সক্ষম হয় ভারত। নীতীশ কুমার রেড্ডি (Nitish Kumar Reddy) বল হাতে এসে অ্যালেনকে ফেরান। বড় শট খেলার চেষ্টা করতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ তুলে দেন নিউ জ়িল্যান্ডের এই ব্যাটার। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নমন ধীর (Naman Dhir) দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে অ্যালেনের ইনিংস শেষ করেন। ৪৩ বলে ৮৬ রানের জুটি ভাঙতেই স্বস্তি ফেরে ভারতীয় শিবিরে।
ভারতের ব্যাটিং ঝড়ে হার নিউ জ়িল্যান্ডের
মিচেল ও অ্যালেনের ব্যাটিংয়ে নিউ জ়িল্যান্ড ম্যাচে লড়াইয়ের ভিত তৈরি করেছিল। ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ তৈরি করে বড় রান তোলার আশাও জাগিয়েছিল তাঁদের এই জুটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই লড়াই ধরে রাখতে পারেনি কিউয়িরা। ভারতের ব্যাটাররা পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের ছবি বদলে দেন। ব্যাট হাতে ভারতীয় দলের দাপটে হার মানতে হয় নিউ জ়িল্যান্ডকে। ৪০ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।