রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক পর্যটন সড়কে ডাকা অনিদিষ্টকালের অবরোধে অচল হয়ে পড়েছে পর্যটনশিল্প। গত পাঁচ দিন ধরে পর্যটক যাচ্ছে না সাজেকে। এতে পর্যটন খাতে প্রায় ২০-২৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিসোর্স কটেজ মালিক সমিতির সহসভাপতি রিন্টু চাকমা।
স্থানীয়রা জানান, টানা অবরোধের কারণে সাজেক অচলের সাথে সাথে সেখানকার ব্যবসা বাণিজ্য ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। খেটে খাওয়া মানুষের কাজকর্ম নেই। পর্যটক না আসলে সাজেকে কোনো রোজগার নেই। এদিকে সাজেকের পরিস্থিতি নিরসনে গতকাল সোমবার সকালে বাঘাইছড়িতে পৌঁছেন তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানের সভাপতিত্বে স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারিদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। তবে ওই মতবিনিময় সভায় অবরোধকারী বা সাজেকের কাববারিরা কেউ অংশগ্রহণ করেনি।
অন্যদিকে সাজেকের উজো বাজার সংঘর্ষের এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে গেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভুঁইয়া এমপি, রাঙামাটি সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এমপি, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত, রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব ও খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁন। এ সময় তারা উজো বাজার সংঘর্ষ অবরোধকারীদের কথা বলেন।
এ সময় সাজেকের উজো বাজারে চলছিল আন্দোলকারীদের পাঁচ দফা দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ। এর নেতৃত্ব দেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা এবং সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা। এ সময় তারা সন্তু গ্রুপের অস্ত্রধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সাজেক থেকে সরিয়ে নাও সহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন করে নিতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলবে।