কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ববিরোধের জের ধরে কাজী ইউসুফ হোসেন (৪৫) নামের এক জামায়াত কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের আমজাদের বাজারে কাজী ইউসুফ হোসেনকে পেটানো হয়। কুমিল্লায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসাইন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কাজী ইউসুফ হোসেন কনকাপৈত গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন। ইসলামী সঙ্গীতের শিল্পী হিসেবেও পরিচিতি ছিল তার।
স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) কনকাপৈত স্কুল মাঠে ট্রাক্টর থেকে বালু ওঠানো-নামানোকে কেন্দ্র করে ইউসুফের সঙ্গে আমজাদের বাজারের ফারিহা এন্টারপ্রাইজের মালিক আবুল কালাম আজাদের প্রতিষ্ঠানের এক ট্রাক্টরচালকের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় আবুল কালাম আজাদ জামায়াত কর্মী ইউসুফকে আমজাদের বাজার এলাকায় যেতে নিষেধ করে ও হুমকি দেন।
সোমবার সকালে ইউসুফ ওই বাজারে গেলে আবুল কালাম আজাদের লোকজন তার ওপর হামলা চালান। এলোপাতাড়ি মারধরে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত কয়েকজন তাকে রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে স্বজনরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.রশিদ আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ইউসুফ হোসেনকে জরুরি বিভাগে আনা হলে তার অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লায় পাঠানো হয়। কুমিল্লা শহরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
ঘটনার পর থেকে আবুল কালাম আজাদ ও তার লোকজন আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন বলেছেন, ইউসুফ আমাদের দলের কর্মী ছিলেন। প্রকাশ্যে মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।
চৌদ্দগ্রাম থানা ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। সেখানে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়াও চলছে।
