পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) আরও একটি নতুন চালান পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ গাড়িবহরটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, এর আগে সোমবার গভীর রাতে (প্রায় আড়াইটায়) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বহরটি রূপপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। ঢাকা থেকে রূপপুর পর্যন্ত সড়কপথে নিরাপত্তায় ছিলেন সেনাবাহিনী, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
নিরাপত্তা ও পরিবহন বিঘ্নহীন রাখতে ভোর থেকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। গাড়িবহর নিরাপদে প্রকল্প এলাকায় প্রবেশের পর মহাসড়কে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে তা চুল্লিতে স্থাপন করা হয়। গত ১১ অক্টোবর প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়, যা প্রকল্পের কমিশনিং কার্যক্রমে বড় মাইলফলক।
প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের আশা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য আনা হবে আরও দুটি চালান। সব মিলিয়ে নয়টি চালানে জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এর সবই রাশিয়া থেকে বিশেষ বিমানে দেশে পৌঁছানোর কথা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, ধারাবাহিক এই সরবরাহের মাধ্যমে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।
বিআলো/শিলি