Published on
:
2 min read
এই সময়, নৈহাটি: কলকাতার চোরবাগানের বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি যাতে কোনও ভাবেই না ঘটে, সে জন্য নৈহাটির বড়মার পুজোয় নজিরবিহীন নিরাপত্তার বলয় তৈরি করছে মন্দির কমিটি ও প্রশাসন। উৎসবের আবহে ভিড় সামলাতে আগামী ৬ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য মূল মন্দির দর্শন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বার পুজোয় দণ্ডি কেটেছিলেন লক্ষাধিক পুণ্যার্থী। এ বার সেই সংখ্যা আরও বাড়বে ধরে নিয়েই সাজানো হচ্ছে সার্বিক ভিড় ও ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্লু-প্রিন্ট। পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি ময়দানে নামানো হচ্ছে পাঁচশোর বেশি স্বেচ্ছাসেবক ও এনসিসি ক্যাডেটকে। ভিড়ের মধ্যে বড় গাড়ি ঢোকার সমস্যা থাকায় জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বিশেষ 'টোটো অ্যাম্বুল্যান্স'।
মঙ্গলবার মন্দির কমিটির তরফে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের পূর্ণ নজরদারিতেই হবে গোটা আয়োজন। আগামী ২৯ অক্টোবর ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের পৌরোহিত্যে পুরসভা, মন্দির কমিটি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরেই সুরক্ষাবিধির চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষিত হবে। ওই দিনই মন্দিরের তৃতীয় বর্ষের প্রতিষ্ঠা দিবস। হোম-যজ্ঞ, পুজো ও ধর্মীয় পাঠের পর দুপুর দুটো পর্যন্ত ভক্তরা পুজো দিতে পারবেন। যজ্ঞ চলাকালীন পুজো বন্ধ রাখা হলেও দর্শনে বাধা থাকবে না, মিলবে ভোগও।
দণ্ডি কাটার ক্ষেত্রেও বেঁধে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট সময়সীমা। ৭ নভেম্বর থেকে দণ্ডি শুরু হয়ে ৮ নভেম্বর সন্ধে ছ'টায় তা শেষ করতে হবে। মন্দির কমিটির মুখপাত্র অনন্ত চট্টোপাধ্যায় ও যুগ্ম সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য জানান, মানুষের আবেগ জড়িয়ে থাকায় নির্দিষ্ট সময়ের পরে কেউ এলে তা পুলিশি নির্দেশিকা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দণ্ডি কাটার লাইনে অসুস্থ হয়ে পড়া পুণ্যার্থীদের উদ্ধার করতে তৈরি থাকছে বিশেষ রেসকিউ টিম। অরবিন্দ রোড ও সংলগ্ন মোড়গুলিতে থাকবে আইসিইউ ও সাধারণ অ্যাম্বুল্যান্স। তবে সংকীর্ণ গলিপথে দ্রুত পৌঁছনোর জন্য চারটি টোটো অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তৎক্ষণাৎ রোগীকে মূল রাস্তায় এনে হাসপাতালে পাঠানো যায়। মজুত থাকবে পর্যাপ্ত ওআরএস, জীবনদায়ী ওষুধ এবং চিকিৎসক দল। মহিলা পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় মোতায়েন থাকবে অতিরিক্ত মহিলা পুলিশ।
অন্য দিকে, মানতের সোনা-দানা ও প্রণামী জমা নেওয়া হবে ২ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। ৭ ও ৮ নভেম্বর ফল ও মিষ্টির ডালি গ্রহণ করা হবে। খোলা হয়েছে অনলাইন পুজোর সুযোগও। প্রসাদ বিতরণের জন্য রেললাইনের উল্টো পারেও বিশেষ কাউন্টার গড়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা, নিত্যযাত্রী এবং ফেরিঘাটের পথচলতি মানুষের ভোগান্তি এড়াতে শিগগিরই তৈরি হচ্ছে পৃথক ট্র্যাফিক রুটম্যাপ।