আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতিতে আরও এক ধাপ এগোল বঙ্গ বিজেপি। পুরভোটে দলের টিকিটে লড়তে ইচ্ছুকদের কাছ থেকে আবেদনপত্র জমা নেওয়ার জন্য মুরলিধর সেন লেনের বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল ড্রপবক্স। সোমবার বিকেল ৫টায় আবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, কলকাতা ও হাওড়া মিলিয়ে ওই ড্রপবক্সে প্রায় ৫ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়েছে। মঙ্গলবার থেকেই শুরু হওয়ার কথা আবেদনপত্রের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের কাজ।
দলীয় সূত্রের খবর, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পাঁচটি মুখবন্ধ বাক্সে রাখা আবেদনপত্র সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এবার সেই আবেদনপত্রগুলি খতিয়ে দেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে গড়ে প্রায় ১৫টি করে আবেদন জমা পড়েছে বলে সূত্রের দাবি। ফলে পুরভোটে দলের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে একাধিক দাবিদার থাকছেন, তা স্পষ্ট।
পুরভোটের প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে দলের অন্দরে যাতে কোনও অসন্তোষ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। সেই কারণেই কোনও একক নেতার সিদ্ধান্তের উপর প্রার্থী নির্বাচন ছেড়ে না দিয়ে একাধিক স্তরে যাচাই-বাছাইয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। নিচুতলা থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা খতিয়ে দেখা এবং তারপর ধাপে ধাপে নাম চূড়ান্ত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে দলের তরফে জানানো হয়েছিল, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংগঠনের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জেলা স্তরে আলোচনা ও যাচাইয়ের পর রাজ্য নেতৃত্বের কাছে নাম পাঠানোর প্রক্রিয়াও গুরুত্ব পেতে পারে। তবে প্রায় পাঁচ হাজার আবেদনপত্রের মধ্যে থেকে শেষ পর্যন্ত কারা দলীয় টিকিট পাবেন, তা নির্ভর করবে পরবর্তী যাচাই-বাছাই এবং নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের উপর।
বিজেপির এই উদ্যোগে পুরভোটে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন দলের একাধিক নেতা-কর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে আবেদনপত্র জমা দেওয়া মানেই প্রার্থীপদ নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীদের রাজনৈতিক পরিচিতি, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে জনসংযোগ, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং স্থানীয় স্তরে গ্রহণযোগ্যতার মতো বিষয়গুলি বিবেচনায় আসতে পারে।
পরিবারের কাউকে প্রার্থী করার ক্ষেত্রেও তাঁর বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে প্রকৃত যোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করার বিষয়ে নেতৃত্বের তরফে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। একই সঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে জনমানসে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
