
যবিপ্রবিতে তিন দিনব্যাপী কনিষ্ঠ শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) আয়োজনে বিভিন্ন বিভাগের নতুন ও কনিষ্ঠ শিক্ষকদের শিক্ষাদান ও গবেষণা দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী ‘ট্রেইনিং অন প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ফর জুনিয়র ফ্যাকাল্টি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯ টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের আইকিউএসির নিজস্ব কনফারেন্স কক্ষে কনিষ্ঠ শিক্ষকদের পেশাগত বিকাশ, বিশ্বমানের শিক্ষাদান পদ্ধতি, উচ্চতর গবেষণা পরিচালনা এবং একাডেমিক ক্যারিয়ার গঠনে এ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর।
প্রধান অতিথি ও প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হামাদুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। একজন ছাত্র থেকে শিক্ষক হওয়ার প্রক্রিয়াটি একটি বড় রূপান্তর।
এই রূপান্তরের সময়ে ক্লাসরুমে কার্যকর শিক্ষাদান, গবেষণা পরিচালনা এবং একাডেমিক নীতি নৈতিকতা পালনে নবীন শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি বড় দায়িত্ব।
শিক্ষকদের সততা, স্বচ্ছতা, সময়ের প্রতি অনুবর্তিতা এবং ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য রোল মডেল হয়ে উঠতে হবে। আজকের এই প্রশিক্ষখ কনিষ্ঠ শিক্ষকদের পেশাগত ও দক্ষতা ও নৈতিকতার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, “বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক স্তরের শিক্ষা ও গবেষণা পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। আগামীতে এক ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি অর্জনের যে লক্ষ্য রয়েছে, তা বাস্তবায়নে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল রূপান্তর ও মানসম্মত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকতা কেবল একটি সাধারণ চাকরি নয়, এটি একটি মহান দায়বদ্ধতা ও ‘প্যাশন’। আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে নিতে এবং মানসম্মত গবেষণা নিশ্চিত করতে নবীন শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়ন ও আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির প্রশিক্ষণই পারে শিক্ষকদের বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান ব্রত বা প্যাশন। শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের আদর্শ ও রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার বিকল্প নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি ও অগ্রযাত্রায় শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের দায়িত্ব হলো কেবল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত বা ফ্যাসিলিটেট করা। তাই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষালয় হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হামাদুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মীর মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. ফারহানা ইয়াসমিন।
