হামে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গতকাল পর্যন্ত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪০ জনে। গত এপ্রিল মাসে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। এরপর বাদপড়া শিশুদের জন্য সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় দফায়ও টিকাদান কর্মসূচি চালানো হয়। এর পরও হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা থামানো যাচ্ছে না। ফলে হাম পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, টিকার বয়স না হওয়া শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়া, বয়স হলেও টিকা না নেওয়া এবং টিকা নেওয়ার পরও কিছু শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়ার কারণে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের হাম থেকে সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও
ইনস্টিটিউটে সরেজমিন দেখা যায়, হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে বিভিন্ন বয়সী শিশু। অক্রান্তদের কারও বয়স তিন মাস, কারও আবার নয় মাস পূর্ণ হয়েছে মাত্র।
মহাখালীতে ভাড়া বাসায় থাকা সামছুন্নাহার তার নয় মাস বয়সী সন্তান উসামাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চার এই মাসের ৬ তারিখে নয় মাস পূর্ণ হয়েছে। আগে থেকেই সর্দি-কাশি ছিল। অসুস্থতার কারণে হামের টিকা দেওয়া হয়নি। হামের কারণে গত ২৫ তারিখে তাকে শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা তিন মাস বয়সী শিশু ব্রাহামও হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু হাসপাতালে ভর্তি। তার মা ইসরাত জাহান বর্শা বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে প্রথমে শরীরে র্যাশ ওঠে, আবার ভালো হয়। কিছুদিন আগে জ¦র আসে, পরে হাম ধরা পড়ে। বয়স কম হওয়ায় তাকে হামের টিকা দেওয়া হয়নি।’
১১ মাস বয়সী আবু তালহার মা জানান, তার সন্তানকে হামের টিকা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘অসুস্থ থাকার কারণে তখন টিকা দেওয়া হয়নি।’
অন্যদিকে ১৬ মাস বয়সী নূর ফারিসা রাশার মায়ের বক্তব্য, টিকা নিয়ে তার মধ্যে এক ধরনের ভয় তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘অনেককে টিকা দেওয়ার পরও হাম হয়েছে। এ কারণে আমার মেয়েকে টিকা দিইনি।’
হেমায়েতপুরের দুই বছর ১০ মাস বয়সী আলফিন হাম টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্ত হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটিকে হামের টিকা দেওয়ার পরও হাম হয়েছে।
এক দিনে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ১ হাজার ২৩২ জন হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জনের। সবমিলিয়ে এক দিনে ১ হাজার ২৯৫ জন রোগী হামে আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাব তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, মৃত সাতজনের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে। উভয় বিভাগে ২ জন করে মারা গেছে।
