লক্ষ্মীপুজো শেষ। উৎসবের রেশ কাটিয়ে আবার চেনা ছন্দে ফেরার পালা। পুজোর পরের মনখারাপের আবহে বিয়ের কথা উঠতেই নিজের মন খুলে কথা বললেন অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য। কেমন মেয়ে পছন্দ তাঁর? লক্ষ্মীর মতো শান্ত, ধীরস্থির, সব কথায় সম্মতি জানানো পাত্রী? একেবারেই নয়! বরং তাঁর পছন্দ কালী ঠাকুরের মতো মেয়ে। কেন এমন পছন্দ অভিনেতার?
লক্ষ্মীপুজোর দিনটা কেমন কাটল অম্বরীশের? অভিনেতা জানালেন, কাজের মধ্যেই কেটেছে দিন। তাঁর বাড়িতে অবশ্য কোনও দিন লক্ষ্মীপুজো হত না। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে পাড়ার যে সব বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো হত, সেখানে প্রসাদ খেতে যাওয়া ছিল বাঁধাধরা নিয়ম। সন্ধ্যা ছ’টা থেকে শুরু হত সেই পর্ব। এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি, এ ভাবেই রাত দশটা-এগারোটা পর্যন্ত অন্তত চার-পাঁচটি বাড়িতে ভোগ খেতেন তিনি।
এখন অবশ্য ছবিটা বদলেছে। পাড়ার প্রতিবেশীদের বাড়ি থেকে খিচুড়ি, লাবড়া, আলুর দম, লুচি, পায়েস, সুজি, নাড়ু— কত কী যে আসে! কাজ সেরে বাড়ি ফিরে সেই সব খাবার নিয়েই জমে ওঠে অভিনেতার রাতের খাওয়াদাওয়া।
ছোটবেলার লক্ষ্মীপুজোর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মায়ের হাতের তৈরি নাড়ু। বিজয়ার পরেও চলত উৎসবের আমেজ। প্রণাম করতে বাড়িতে অতিথিদের আনাগোনা লেগেই থাকত। তাঁদের জন্য তৈরি থাকত নাড়ু, নিমকি, ঘুগনি, সুজি। তবে অতিথিদের আপ্যায়নের সেই সব খাবারের ভাগ যে অম্বরীশের পেটেও বেশি পড়ত, সে কথাও অকপটে জানিয়েছেন অভিনেতা। বিজয়ার পর থেকে কালীপুজো পর্যন্ত হিমেল হাওয়া, মনখারাপ করা সন্ধ্যা আর মায়ের হাতের নাড়ু— সব মিলিয়ে অন্য রকম ছিল সেই সময়।
কিন্তু নিজের জীবনে কেমন বৌ চান অভিনেতা? লক্ষ্মীর মতো গৃহলক্ষ্মী? অম্বরীশের উত্তর শুনলে চমকে যেতে পারেন অনেকেই। তাঁর কথায়, “লক্ষ্মীর মত বৌ পাওয়া খুব মুশকিল আর লক্ষ্মীর মত বউকে রাখাও খুব মুশকিল। সে জন্য অত আশা আমি করি না।”
লক্ষ্মী যে চঞ্চলা, তাঁকে ধরে রাখা সহজ নয়— সেই প্রসঙ্গও টেনেছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, নিজের জীবনে যে অর্থলক্ষ্মী রয়েছেন, তিনি ঠিক থাকলেই হল। জীবনসঙ্গীকে লক্ষ্মীর ছাঁচে গড়ে নেওয়ার কোনও ইচ্ছে নেই তাঁর। এমনকি বিয়ে করবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
তা হলে কেমন মেয়ে পছন্দ অম্বরীশের? এ বার আর কোনও রাখঢাক নয়। অভিনেতার কথায়, “বেশি শান্ত ধীর স্থির যা বলব তাতে হ্যাঁ হ্যাঁ মেলাবে এরকম বউ আমার কোনদিনই পছন্দ ছিল না, আজও নয়।” তাঁর পছন্দ এমন মেয়ে, যে নিজের মতামত জানাবে, রাগ করবে, প্রয়োজনে ঝগড়াও করবে। তাঁর কথায়, “আমার কালী ঠাকুরের মতো মেয়েই পছন্দ।”
কথার ফাঁকে সমাজের বদলে যাওয়া মানসিকতার কথাও বলেছেন অম্বরীশ। তাঁর মতে, আগেকার দিনের মতো সব অশান্তি মুখ বুজে সহ্য করে সংসারে পড়ে থাকার ধারণা আজকের মেয়েদের মধ্যে নেই। আর এই বদলকে সমর্থনও করেন তিনি। অর্থাৎ, সংসারে শান্তি বজায় রাখার নামে নিজের মতামত বিসর্জন দেওয়ায় বিশ্বাসী নন অভিনেতা।
তা হলে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন না কেন? অম্বরীশ জানালেন, বিয়ের কথা তিনি প্রায়ই ভাবেন। কাউকে পছন্দ হচ্ছে না, এমন নয়। সমস্যা হল, যাঁদের তাঁর পছন্দ হচ্ছে, তাঁদের আবার তাঁকে পছন্দ হচ্ছে না! কেন এমন হচ্ছে, তা অবশ্য জানা নেই অভিনেতার।
তবে সবটাই যে সময়ের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন, তা স্পষ্ট। তাঁর বিশ্বাস, কখন কী হবে, তা আগে থেকে বলা যায় না। আর বিয়ের অপেক্ষাটাও তাঁর কাছে বেশ উপভোগ্য। দুর্গাপুজোর আগে যেমন উৎসবের জন্য অপেক্ষা করতে ভাল লাগে, বিয়ের ক্ষেত্রেও যেন সেই একই অনুভূতি। অম্বরীশের কথায়, “বিয়ে হয়ে যাওয়াটা অনেকটা দশমীর মত, পুজো শেষ।”
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
