আজকের নতুন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সকল রক্তক্ষয়ী সহিংসতা ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক, মানবিক, বৈষম্যহীন এবং আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে আর কখনো কোনো স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ক্যানভাসে কিছু তারিখ কেবল দিনপঞ্জির পাতা নয়, বরং গোটা জাতির আত্মত্যাগের ও মোড়বদলের রক্তস্নাত অধ্যায়। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টনের রাজপথের লগি-বৈঠার পৈশাচিকতা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার লজ্জাজনক পলায়ন—এই দুই দীর্ঘ সময়রেখা যেন বাংলাদেশের রাজনীতি, দমনপীড়ন ও ক্ষমতার চরম রূপান্তরের এক পূর্ণাঙ্গ বৃত্ত। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর যে সহিংস রাজনীতির বীজ রোপিত হয়েছিল, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে তা এক সর্বগ্রাসী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে রূপ নেয়। অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সেই স্বৈরাচারী কাঠামোর পতন ঘটে। এই নিবন্ধে আমি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের প্রাণহানি ও সহিংসতার পটভূমি থেকে শুরু করে দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক পথপরিক্রমা পেরিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনার পলায়নের নেপথ্য কারণ ও এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করব।
লগি-বৈঠার রাজনীতি ও সহিংসতার সূচনা
২০০৬ সালের অক্টোবর মাস ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে চরম এক সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকটের কাল। চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষের প্রাক্কালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং এর প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন—তা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকাসহ দেশজুড়ে লগি-বৈঠা নিয়ে রাজপথে সমবেত হওয়ার এবং দলীয় শোডাউনের প্রকাশ্য ডাক দেন। ২৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার পল্টন ও বায়তুল মোকাররম চত্বর এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘর্ষ এক ভয়াবহ রূপ নেয়। লগি-বৈঠা এবং আধুনিক অস্ত্রের মহড়ায় রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়। দিনের আলোতে পিটিয়ে মানুষ হত্যার মতো পৈশাচিক দৃশ্য বিশ্ব গণমাধ্যমেও স্থান পায়। সেদিনের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হন।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং লগি-বৈঠার তাণ্ডবে (যা লগি-বৈঠা আন্দোলন নামে পরিচিত) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী শহীদ হন। সেদিনের সেই ভয়াল ট্রাজেডিতে শহীদ হওয়া উল্লেখযোগ্য হলো: (১) ঢাকা কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড বায়তুলমাল সেক্রেটারি হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপন, (২) স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিবিএ অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য ও মিরপুর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম (ফাহিম), (৩) জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের মিটফোর্ড ইউনিটের সভাপতি জসিম উদ্দিন। সেদিনের বেশ কিছু ভিডিওফুটেজে তার লাশের ওপর পৈশাচিক উল্লাসের নৃত্য দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। (৪) ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন কমবয়সী কর্মী সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুম, (৫) জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হাবিবুর রহমান, (৬) ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী আবদুল্লাহ আল ফয়সাল ও (৭) মুজাহিদুল ইসলাম। এছাড়া সংঘর্ষের দিন ও পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতায় ১৪ জন শাহাদাতবরণ করেছিলেন বলে জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। রাজনৈতিক পালাবদল ও নানা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই ঘটনার বিচার ও মামলার গতিপ্রকৃতি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন মোড় নিয়েছে, তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দিনটি একটি কলঙ্কজনক ও বিভীষিকাময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
দেড় যুগের ফ্যাসিবাদী শাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের গ্রাস
২০০৬ সালের সেই সহিংসতার পথ ধরে ২০০৭ সালের ১/১১ এর পটপরিবর্তন ঘটে এবং পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তারা রাষ্ট্রকাঠামোকে নিজেদের কুক্ষিগত করতে শুরু করে। নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন এবং জনপ্রশাসনকে আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়। ২৮ অক্টোবরের আদলে বিরোধী মত দমনে বলপ্রয়োগ ও গায়েবি মামলার সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের খুন, গুম, নির্বিচারে গ্রেফতার এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে রাজনীতিকে একদলীয় আধিপত্যের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। গণতান্ত্রিক লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতল ক্ষেত্র চিরতরে ধ্বংস হয়ে যায়। রাষ্ট্রযন্ত্র ও দলীয় ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার এবং মৌলিক বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের সাজানো, দিনের ভোট রাতে ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার বারবার পদদলিত করা হয়।
কোটা সংস্কার থেকে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থান
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা শোষণ, নিপীড়ন, গুম, খুন, দুর্নীতি ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের ছাত্রসমাজ এক অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন গড়ে তোলে। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন মুহূর্তেই গোটা জাতির মুক্তি সংগ্রামে রূপ নেয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটোয়া বাহিনী ও ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। জুলাইয়ের শেষ ও আগস্টের প্রথম সপ্তাহে শত শত তাজা প্রাণ রাজপথে ঝরে পড়ে। নিষ্পেষিত সাধারণ মানুষ তরুণ প্রজন্মের পাশে এসে দাঁড়ায়। আন্দোলন কেবল কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং একটি বৈষম্যহীন ইনসাফপূর্ণ মানবিক রাষ্ট্র গঠনের এক দফায় রূপান্তরিত হয়। আপামর জনতা সমস্ত ভয়ভীতি উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনটিকে প্রতীকীভাবে আন্দোলনের সাথে সংগতি রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনমানসে ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। ঐ গণঅভ্যুত্থানে দেশব্যাপী পুলিশের গুলীতে ও হামলায় ৮০০ এর অধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন। নির্দিষ্টভাবে কেবল ৫ আগস্ট বা ‘৩৬ জুলাই’ একক দিনে ঢাকাসহ সারাদেশে শহীদ হওয়া নির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ একক তালিকা সরকারিভাবে আলাদা দিন হিসেবে প্রকাশিত না হলেও, সামগ্রিক জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতীকী ও পরিচিত কিছু শহীদের নাম এবং যাঁদের আত্মত্যাগ এই আন্দোলনকে চূড়ান্ত বিজয়ে রূপ দিয়েছিল তারা হলেন-(১) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক শহীদ আবু সাঈদ। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে ১৬ জুলাই পুলিশের গুলীতে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দিয়ে তিনি শাহাদাৎবরণ করেন। তার এই বীরত্বপূর্ণ শহীদি মৃত্যু সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। (২) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। ১৮ জুলাই ঢাকার উত্তরা এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করার সময় তিনি গুলীবিদ্ধ হয়ে শাহাদাৎবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তার শেষ কথা ছিল—“পানি লাগবে, পানি?” যা আন্দোলনের এক অমর স্লোগানে পরিণত হয়। (৩) ঢাকা রেসিডেনসি মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ফারহান ফাইয়াজ। ১৮ জুলাই ধানমন্ডি এলাকায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলীতে সে নির্মমভাবে শাহাদাৎবরণ করেন। কমবয়সী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যু দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। (৪) চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ওয়াসিম আকরাম। ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় সংঘটিত সংঘর্ষে তিনি গুলীবিদ্ধ হয়ে শাহাদাৎবরণ করেন। (৫) ওমরগনি এম. ই. এস কলেজের ছাত্র শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্ত। ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় আন্দোলনের সময় সংঘর্ষে গুলীবিদ্ধ হয়ে তিনি শাহাদাৎবরণ করেন। তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের অন্যতম প্রথম শহীদ। (৬) একজন স্বাধীন ফটোসাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী তাহির জামান। ১৯ জুলাই ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার গুলীবর্ষণের দৃশ্য ধারণ করার সময় তিনি মাথায় গুলীবিদ্ধ হয়ে শাহাদাৎবরণ করেন। (৭) ঢাকার মাইলস্টোন কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র নাঈমা সুলতানা। উত্তরা এলাকায় নিজ বাসার বারান্দায় দাঁড়ানো অবস্থায় ১৯ জুলাই একটি গুলী এসে তার গায়ে লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাৎবরণ করেন। (৮) ধানমন্ডি গভ. ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র গোলাম নাফিজ । ৪ আগস্ট ফার্মগেট এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলীতে শাহাদাৎবরণ করেন। পরবর্তীতে তার লাশ একটি রিকশার ফুটের ওপর যেভাবে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই দৃশ্য গণঅভ্যুত্থানের এক অন্যতম প্রতীকী বেদনার ছবিতে রূপ নেয়। এছাড়াও ৫ আগস্ট বা ‘৩৬ জুলাই’ এর চূড়ান্ত বিজয় মিছিলে এবং তার আগের দিনগুলোতে গুলীতে প্রাণ হারান নাম না জানা অসংখ্য সাধারণ শ্রমিক, রিকশাচালক, মাদরাসা ও বিভিন্ন বিদ্যালয়-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনতা। সরকারি গেজেট অনুযায়ী এই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের মোট সংখ্যা ৮৩৪ জন, যাদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান লাভ করে।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পলায়ন ও স্বৈরাচার পতন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এদিন লাখ লাখ ছাত্র-জনতা সমস্ত কার্ফু ও দমনপীড়ন ভেঙে গণভবন ও রাজধানীর অভিমুখে চূড়ান্ত লং মার্চ ঘোষণা করে। চারদিক থেকে জনতার অপ্রতিরোধ্য সমুদ্র ধেয়ে আসার মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডাররা টিকতে পারেনি। বুঝতে পেরে যে ফ্যাসিবাদী দেওয়াল আর রক্ষা করা সম্ভব নয়, সেদিন দুপুরের মধ্যেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। দীর্ঘ ১৬ বছরের পরাধীনতা, গুম-খুন আর ফ্যাসিবাদী শৃঙ্খল ভেঙে বাংলার আকাশ-বাতাস মুখরিত হয় ছাত্র-জনতার বিজয়ের উল্লাসে। বাংলাদেশের মানুষ ফিরে পায় তাদের হারানো বাকস্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদা।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার সহিংসতা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান—এই দীর্ঘ পথপরিক্রমা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বড় শিক্ষা। ২৮ অক্টোবরের নৃশংসতা যে অগণতান্ত্রিক ও সহিংস রাজনীতির সূচনা করেছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত বিপ্লবের মাধ্যমে সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামোর চূর্ণ-বিচূর্ণ পতন ঘটেছে।
আজকের নতুন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সকল রক্তক্ষয়ী সহিংসতা ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক, মানবিক, বৈষম্যহীন এবং আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে আর কখনো কোনো স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
