দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’ তাদের কুরিয়ার ও পার্সেল সেবায় আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে ‘ডিজিটাল পেমেন্ট অন ডেলিভারি’ সুবিধা। এই নতুন সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা পার্সেল গ্রহণের সময় নগদ টাকার ঝামেলা ছাড়াই ডিজিটাল উপায়ে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।
সোমবার( ২৬ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই সুবিধার অধীনে কোনো পার্সেল ‘আউট ফর ডেলিভারি’ স্ট্যাটাসে গেলেই গ্রাহক তার মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে একটি পেমেন্ট লিংক পাবেন। সেই লিংকে প্রবেশ করে ‘পে নাও’ অপশনে ট্যাপ করে গ্রাহকেরা যেকোনো ব্যাংক কার্ড কিংবা মোবাইল ওয়ালেটের (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) মাধ্যমে সহজেই পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন।
এর ফলে কুরিয়ারের পার্সেল গ্রহণের জন্য আগে থেকে নগদ টাকা তৈরি রাখা, ভাঙতি মেলা কিংবা পেমেন্ট করার জন্য ডেলিভারির স্থানে গ্রাহকের সশরীরে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। অন্য কেউ পার্সেল গ্রহণ করলেও গ্রাহক দূর থেকেই নিজের মোবাইল থেকে মূল্য পরিশোধ করে দিতে পারবেন। কুরিয়ার সেবায় গ্রাহকদের পেমেন্টের স্বাধীনতা, নমনীয়তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডিজিটাল পেমেন্ট অন ডেলিভারি চালু করার মাধ্যমে পাঠাও কুরিয়ার ডেলিভারি প্রক্রিয়ার একটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত সমস্যার সমাধান এনে দিয়েছে। ইতিপূর্বে ডেলিভারি নেওয়ার সময় গ্রাহকদের নগদ টাকা প্রস্তুত রাখা বা ভাঙতি মেলানোর যে ঝামেলা পোহাতে হতো, এই নতুন সুবিধার ফলে তার অবসান ঘটবে। পার্সেল হাতে পাওয়ার মুহূর্তে বা পূর্বে নিরাপদ ও দ্রুত ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন গ্রাহকরা। এছাড়াও গ্রাহক যদি ডেলিভারির স্থানে উপস্থিত নাও থাকেন, তারপরেও পেমেন্ট করতে কোন অসুবিধা হবে না। ফলে ডেলিভারি প্রক্রিয়া হবে আরও দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব।
এই উদ্যোগটি পাঠাও কুরিয়ারের সাথে যুক্ত মার্চেন্টদের জন্যও নতুন মাত্রা নিয়ে এসেছে। ডেলিভারির পয়েন্টে একাধিক পেমেন্ট বিকল্প থাকায় মার্চেন্টদের গ্রাহকগণ কেনাকাটার শেষ ধাপ পর্যন্ত ঝামেলামুক্ত থাকতে পারবেন, যা গ্রাহকের অভিজ্ঞতাকে আরও আস্থাপূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এটি কুরিয়ার খাতে প্রথাগত ক্যাশ-নির্ভরতাকে পরিবর্তিত করে বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্টের এক নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলবে।
এই ফিচারটির প্রসঙ্গে পাঠাও-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেকোন ডেলিভারিতে ডিজিটাল পেমেন্টকে একটি নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য অভ্যাসে পরিণত করা পাঠাও কুরিয়ারের অন্যতম লক্ষ্য। পার্সেল গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের পেমেন্টের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার পাশাপাশি এই উদ্যোগ মার্চেন্টদেরও উন্নত গ্রাহকসেবা প্রদানের প্রয়াসকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা পাঠাও বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহত্তম ডিজিটাল কমার্স প্ল্যাটফর্ম। রাইড শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি ও ই-কমার্স লজিস্টিক্সে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। প্রায় ১৫ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী, ৪ লাখ পাঠাও হিরো, ২ লাখ মার্চেন্ট এবং ১৫ হাজার রেস্টুরেন্ট পার্টনারদের সাথে নিয়ে পাঠাও সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১০ লক্ষ উপার্জনের সুযোগ তৈরি করেছে।
আরএএস
