এক সময়ে দক্ষিণী ছবির দুনিয়া থেকে বলিউড, সর্বত্রই দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন অসিন। আমির খানের বিপরীতে ‘গজনী’ ছবিতে অভিনয় করে হিন্দি ছবির দর্শকদের মনেও জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। সেই ছবি বক্সঅফিসে আলোড়ন ফেলেছিল। কিন্তু একটা সময় পরে তিনি অভিনয়জগৎ থেকে বেশ দূরে চলে যান।
তার পর থেকে তাঁর জীবন জুড়ে রয়েছে শুধুই পরিবার। মাইক্রোম্যাক্স সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রাহুল শর্মাকে বিয়ে করেছিলেন অসিন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্ত্রী অসিনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন রাহুল। জানালেন, তাঁদের সাত বছরের মেয়ে অরিন রায়ন শর্মাকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। এমনকি, বাড়িতে টেলিভিশনও নেই।
রাহুল জানান, মেয়ের বেড়ে ওঠার নেপথ্যে অসিনের অবদান অনেকখানি। মাত্র সাত বছর বয়সেই নাকি প্রায় ১২টি ভাষা বুঝতে ও বলতে পারে অরিন। সেই তালিকায় রয়েছে কোরীয়, জাপানি, থাই এবং চিনা ভাষাও। রাহুলের কথায়, “আমাদের মেয়ের বয়স এখন মাত্র সাত বছর। অথচ কোরীয়, জাপানি, থাই এবং চিনা-সহ প্রায় ১২টি ভাষা বুঝতে এবং বলতে পারে সে। আর আমি দু’টি ভাষা বলতেই হিমশিম খাই। ইংরেজি আর হিন্দিতেই আটকে রয়েছি আমি।”
পরিবারের প্রভাবেই মেয়ের ভাষা শেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তাঁদের বাড়িতে টেলিভিশন নেই। অরিনকেও এখনও মোবাইল ফোনও নেই। তাই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার উপরেই জোর দিয়েছেন তাঁরা। রাহুল বলেন, “এখনও পর্যন্ত অরিনকে কোনও স্ক্রিনের সামনে বসতে দিইনি। বাড়িতে টেলিভিশন নেই, মোবাইল ফোনও ব্যবহার করতে দিই না। আমাদের বাড়িতে শুধু বই রয়েছে। মনে হয়, অরিনের স্কুলের থেকেও আমাদের বাড়িতে বেশি বই আছে।”
তিনি আরও জানান, অরিন এখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু বাড়িতে অষ্টম ও নবম শ্রেণির বইও রয়েছে। মজা করে মেয়ের পড়াশোনা নিয়ে রাহুল বলেন, “মাঝেমধ্যে ঠাট্টা করে বলি, ওকে দশম শ্রেণির পরীক্ষাতেও বসিয়ে দেওয়া হোক। এ সবই আসলে আমাদের জীবনে অসিনের অবদান।”
একই সাক্ষাৎকারে স্ত্রী অসিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন রাহুল। তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে অসিনকে বিয়ে করা অন্যতম বলে জানিয়েছেন তিনি। রাহুলের মতে, জীবনের নানা কঠিন পরিস্থিতিতে স্ত্রী তাঁর পাশে থেকেছেন। সাহস জুগিয়েছেন, এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।
