প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিএ (অনার্স) ৪৯তম ব্যাচ ও স্নাতকোত্তর (এমএ) ৪৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের দামপাড়া ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে (অডিটোরিয়াম) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
- Advertisement -
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ জসীম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার এবং কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম। ওরিয়েন্টেশন স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির উচ্চশিক্ষার সূচনায় নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমণ্ডলী, মানসম্মত শিক্ষা এবং আধুনিক শিক্ষার পরিবেশের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিকে বেছে নেওয়া নবীনদের জীবনের একটি সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত। তিনি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি একটি শিক্ষার্থীবান্ধব, নিরাপদ ক্যাম্পাস বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও হয়রানি প্রতিরোধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি নিয়মিত অধ্যয়ন, কঠোর পরিশ্রম এবং সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবমুখী দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের পরামর্শ দেন।
কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম বলেন, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিভাগ শুরু থেকেই গুণগত শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ইংরেজি সাহিত্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে উদার, মানবিক ও সহনশীল করে তোলে। ভাষার দক্ষতা অর্জনে তিনি নিয়মিত ব্যাকরণ চর্চা, পাঠ্যক্রমের বাইরের সৃজনশীল বই পড়া এবং যৌক্তিক সমস্যা সমাধানের অভ্যাস গড়ে তোলার তাগিদ দেন।
ওরিয়েন্টেশন স্পিকার ড. কিসিঞ্জার চাকমা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, কেবল একাডেমিক সনদ অর্জনই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়; এর সঙ্গে যোগাযোগ দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের সম্মিলন ঘটাতে হবে। জাপানে তাঁর দীর্ঘ পাঁচ বছরের উচ্চশিক্ষার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়ী ও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব, গবেষণা কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক বৃত্তিগুলোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের বৈশ্বিক মানের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রস্তুত করার পরামর্শ দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ জসীম উদ্দীন নবীনদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর যুগেও আন্তর্জাতিক সংযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি মেধার পূর্ণ বিকাশ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং সবার সাফল্যমণ্ডিত শিক্ষাজীবন কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী, যিনি ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক কার্যালয়ের পরিচালক সাদাত জামান খান আমেরিকান কর্নার ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরেন। অভিযোগ প্রতিকার কমিটির সদস্য গাজী শাহাদাত হোসেন নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের সমন্বয়ক কোহিনূর আকতার এবং ৪৯তম ব্যাচের সমন্বয়ক সহকারী অধ্যাপক সুমিত চৌধুরী শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম, কোর্স ও সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক মো. কাউসার আলম ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সহকারী কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব আলী।
বিভাগের প্রভাষক মো. মেহেদী রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
