সর্বশেষ আপডেট:
ক্রীড়া প্রতিবেদক
কক্সবাজারে মঙ্গলবার খুলনা বিভাগের বিপক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন সিলেট বিভাগের অমিত হাসান। অন্যদিকে, জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চতুর্থ রাউন্ডে এসে রাজশাহী বিভাগকে ইনিংস ও ১০৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চলমান টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে ঢাকা বিভাগ।
চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিই ড্র হলেও এই রাউন্ডে বেশ কিছু নজরকাড়া ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দেখা গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন শাহ পরান। পাশাপাশি রংপুর বিভাগের হয়ে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন মিম মোসাদ্দেক ও নবীন ইসলাম।
সিলেট-খুলনা
চতুর্থ ও শেষ দিনে ১৭১ রান নিয়ে খেলা শুরু করা অমিত ডাবল সেঞ্চুরি ছুঁয়ে শেষ পর্যন্ত ২০১ রানে অপরাজিত থাকেন। এর মধ্য দিয়ে সপ্তম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হলেন তিনি। তার ৩৩৫ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৬টি চার ও দুটি ছক্কায়।
শুধু তাই নয়, টানা তিনটি মৌসুমে ডাবল সেঞ্চুরি করার কীর্তিও গড়লেন অমিত। তার ব্যাটে চড়ে ৬ উইকেটে ৬৩২ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে সিলেট। জবাব দিতে নেমে চাপে পড়া খুলনা প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৯৯ রান তোলার পর দুই দল ড্র মেনে নেয়। অবশ্য বৃষ্টির কারণে ম্যাচের প্রথম দিনটি সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছিল।
সিলেটের হয়ে আগের দিন সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া আশরাফুল হাসান আউট হন ১১৪ রান করে। তার ২১১ বলের ইনিংসে ছিল ১৫টি চার।
রাজশাহী-ঢাকা
রাজশাহীতে স্বাগতিকদের সহজে হারিয়ে চলতি মৌসুমে নিজেদের জয়ের খাতা খুলেছে ঢাকা। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ২১৫ রান নিয়ে শেষ দিন শুরু করা রাজশাহী খেলতে পারে আর মাত্র ১১.৩ ওভার। ২৫৬ রানেই অলআউট হয় তারা। এতে ঢাকা পায় ইনিংস ও ১০৩ রানের বড় জয়।
আগের দিন ৬৪ রানে অপরাজিত থাকা সাব্বির রহমান দিনের দ্বিতীয় ওভারে কোনো রান যোগ না করেই সাজঘরে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৬ রান যোগ করতে শেষ ৪ উইকেট হারায় রাজশাহী।
ইনিংস ব্যবধানে জেতায় ৮ পয়েন্টের সঙ্গে একটি বোনাস পয়েন্টও পেয়েছে ঢাকা। সব মিলিয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা উঠে এসেছে এনসিএলের পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে খুলনা। আর চলতি আসরে রাজশাহীর এটি প্রথম হার।
ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম
বগুড়ায় ময়মনসিংহ বিভাগকে চেপে ধরেও ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে চট্টগ্রামকে। তাদের হয়ে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেন পরান।
গত মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচে ৯১ রানে আউট হওয়া পরান নিজের তৃতীয় ম্যাচেই পেলেন এই ফরম্যাটে প্রথম সেঞ্চুরি। সাত নম্বরে নেমে ১৬৬ বলে ১১টি চার ও ১২টি ছক্কায় অপরাজিত ১৬৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ উইকেট জুটিতে মাত্র ৫ রান করা ইরফান হোসেনকে নিয়ে ৭৯ রান যোগ করেন পরান।
আগের দিন ৬ উইকেটে ৪২৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংসে ৫৯৯ রানে অলআউট হয়। ফলে তারা পায় ১৩৪ রানের লিড।
এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কাতে পড়েছিল ময়মনসিংহ। তবে আলোকস্বল্পতা জয় থেকে বঞ্চিত করে চট্টগ্রামকে। শেষ পর্যন্ত বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে খেলা যখন বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তখন ময়মনসিংহের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ৬১ রান।
বরিশাল-রংপুর
সিলেটে বরিশাল বিভাগ ও রংপুরের মধ্যকার ম্যাচটিও ড্র হয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে রংপুর ৫ উইকেটে ২৮৮ রান সংগ্রহ করার পর ড্র মেনে নেয় দল দুটি।
বিনা উইকেটে ৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা রংপুরের ইনিংসের মূল ভিত্তি ছিলেন ওপেনার মিম (১৮৯ বলে ১২টি চার ও একটি ছক্কায় ১২১ রান) ও পাঁচে নামা নবীন (১৬৯ বলে ১৪টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৪ রান)। উভয়েরই প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি এটি।
