Published on
:
2 min read
নীতা আম্বানির শাড়ি ও গয়নার সংগ্রহ বরাবরই নজর কাড়ে। ছেলে-মেয়ের বিয়ে হোক কিংবা পুজো-পার্বণ, প্রতিবারই তাঁর সাজে ধরা পড়ে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অপূর্ব মেলবন্ধন। শাড়ি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর রুচি ও স্টাইলিংয়ের প্রশংসা করতেই হয়। ঐতিহ্যবাহী শাড়িকেও কী ভাবে আধুনিক ছোঁয়ায় স্বতন্ত্র করে তোলা যায়, সম্প্রতি আরও একবার তা দেখিয়ে দিলেন নীতা আম্বানি। এ বার বেবি পিঙ্ক কাঞ্জিভরম শাড়িতে নজর কাড়লেন তিনি। তবে শুধু রং বা নকশা নয়, এই শাড়ির বিশেষত্ব লুকিয়ে রয়েছে এর বুননেও। জানেন, শাড়িটি তৈরি করতে কত দিন সময় লেগেছে?
সম্প্রতি নীতা আম্বানির লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘স্বদেশ অনলাইন’-এর ইনস্টাগ্রাম পেজে তাঁর এই সাজের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে দেখা গিয়েছে হালকা গোলাপি কাঞ্জিভরম শাড়িতে। নীতা আম্বানির এই শাড়িটি তৈরি হয়েছে সূক্ষ্ম মালবেরি সিল্ক দিয়ে। হালকা গোলাপি জমির উপর রয়েছে কাট্টাম চেকসের নকশা। শাড়িজুড়ে সোনালি ও খাঁটি রুপোলি জরির কারুকাজ বুননে এনেছে বাড়তি জেল্লা। পাশাপাশি ময়ূর ও রুদ্রাক্ষের মতো ঐতিহ্যবাহী মোটিফ শাড়িটিকে স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে। আঁচলের প্রান্তে রয়েছে ট্যাসেলের কাজ। প্রতিটি নকশা ও বুননে ধরা পড়েছে দক্ষিণ ভারতীয় তাঁতশিল্পের ঐতিহ্য।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এই শাড়িটি সম্পূর্ণ হাতে বোনা। তাঁতশিল্পী রাজেশ শাহ তৈরি করেছেন শাড়িটি। আর এই নিখুঁত বুনন ও সূক্ষ্ম কারুকাজ ফুটিয়ে তুলতে সময় লেগেছে প্রায় চার মাস। অর্থাৎ, নীতা আম্বানির এই সাজের পিছনে রয়েছে দীর্ঘশ্রম, দক্ষতা এবং শিল্পীর অসামান্য নৈপুণ্য।
শাড়ির সঙ্গে নীতা বেছে নিয়েছেন লম্বা হাতার সিলভার-গ্রে ব্লাউজ়। গোলাপি সিল্কের কোমল আভা আর ধূসর-রুপোলি রঙের মেলবন্ধন তাঁর সাজে স্নিগ্ধতা এনেছে। কনট্রাস্ট রঙের ব্লাউজ়ের কারণে চেনা কাঞ্জিভরমের সাজেও এসেছে নতুনত্ব। তবে এই লুকের অন্যতম আকর্ষণ তাঁর মুক্তোর হার।
‘স্বদেশ অনলাইন’-এর এই হার তৈরি হয়েছে রাজস্থানি শৈলীতে। একাধিক স্তরে সাজানো হারটিতে রয়েছে ছোট ছোট মুক্তো, সোনার স্পেসার বার এবং প্রাকৃতিক পোলকি হীরে। ঐতিহ্যবাহী থাপ্পা পদ্ধতিতে তৈরি এই গয়নায় ফুটে উঠেছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। এর সঙ্গে নীতা পরেছেন কানপাসা, আংটি এবং গোলাপি চুড়ি। শাড়ির রঙের সঙ্গে গয়নার সামঞ্জস্য তাঁর সাজকে আরও এলিগ্যান্ট করে তুলেছে।
নীতা আম্বানির এই লুক বুঝিয়ে দিয়েছে, বিশেষ অনুষ্ঠানে সাজতে গেলে সব সময় গাঢ় রং বা ভারী কারুকাজের শাড়ি পরার দরকার পড়ে না। বরং হালকা রঙের ঐতিহ্যবাহী শাড়ির সঙ্গে সঠিক ব্লাউজ় ও গয়না বেছে নিলেই তৈরি হতে পারে অনন্য স্টাইল স্টেটমেন্ট। দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী কাঞ্জিভরমের সঙ্গে রাজস্থানি গয়নার এই মেলবন্ধনই নীতা আম্বানির সাজকে সেই স্বতন্ত্র মাত্রাই দিয়েছে।
FAQ
১. নীতা আম্বানির গোলাপি কাঞ্জিপুরম শাড়ি তৈরি করতে কত দিন সময় লেগেছে?
নীতা আম্বানির বেবি পিঙ্ক কাঞ্জিপুরম শাড়িটি হাতে বুনতে প্রায় চার মাস সময় লেগেছে।
২. নীতা আম্বানির কাঞ্জিপুরম শাড়িটি কী দিয়ে তৈরি?
শাড়িটি সূক্ষ্ম মালবেরি সিল্ক দিয়ে তৈরি। এতে সোনালি ও খাঁটি রুপোলি জরির কাজ রয়েছে।
৩. নীতা আম্বানির গোলাপি শাড়িতে কী কী নকশা রয়েছে?
শাড়িটিতে কাট্টাম চেকসের পাশাপাশি ময়ূর ও রুদ্রাক্ষের ঐতিহ্যবাহী মোটিফ রয়েছে। আঁচলের শেষ প্রান্তে রয়েছে ট্যাসেলের কাজ।
৪. নীতা আম্বানি গোলাপি কাঞ্জিপুরমের সঙ্গে কী ধরনের ব্লাউজ় পরেছেন?
তিনি লম্বা হাতার সিলভার-গ্রে ব্লাউজ় পরেছেন। গোলাপি শাড়ির সঙ্গে এই রং সাজে স্নিগ্ধ বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
৫. নীতা আম্বানির মুক্তোর হারের বিশেষত্ব কী?
‘স্বদেশ অনলাইন’-এর এই হারটি রাজস্থানি স্টাইলে তৈরি। এতে বহুস্তরীয় মুক্তো, সোনার স্পেসার বার ও ন্যাচারাল পোলকি হিরে রয়েছে। গয়নাটি ঐতিহ্যবাহী থাপ্পা পদ্ধতিতে তৈরি।
