খাবারের রং শুধু চোখের আরাম নয়, পুষ্টিরও ইঙ্গিত। সব্জিতে বেগনি রংটা বেশ নজর কাড়ে। এই রং আসে অ্যান্থোসায়ানিন থেকে। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা রোগপ্রতিরোধে সাহায্য করে। এই রঞ্জক থেকেই তৈরি হয় লাল, নীল, বেগনি খাবার — যেমন বেগনি অ্যাসপারাগাস, বেগনি টম্যাটো, বেগনি বাঁধাকপি বা বেগনি আলু। বিশেষ করে বেগনি আলু আর বেগনি রাঙা আলুতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের পরিমাণ এত বেশি যে তা প্রদাহ কমায়, হৃদ্রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
কেন খাবেন বেগনি আলু?
১. অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের ভাণ্ডার
রং যত গাঢ়, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ততই বেশি — এই নিয়ম বেগনি আলুর ক্ষেত্রে খাটে। গবেষণা বলছে, প্রতি ১০০ গ্রাম বেগনি আলুতে ১৬ থেকে ৫৭ মিলিগ্রাম অ্যান্থোসায়ানিন থাকে, যা সাধারণ রাঙাআলুর চেয়ে অনেক বেশি। তবে রান্নার পদ্ধতিতে এর পুষ্টি কমতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, স্টার-ফ্রাই করলে ৬০ শতাংশ ও বেক করলে ২২ শতাংশ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট নষ্ট হয়।
২. হার্টের বন্ধু
বেগনি আলু রক্তচাপ কমাতে ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে। প্রতিদিন প্রায় একটি মাঝারি বেগনি আলু (২০০ গ্রাম) দু’সপ্তাহ খেলে সাদা আলুর তুলনায় রক্তচাপ ও ধমনীর নমনীয়তা উল্লেখযোগ্য ভাবে ভাল হয়।
৩. প্রদাহ কমায়
দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ থেকে হৃদ্রোগ, ডায়াবিটিস, আর্থ্রাইটিস হতে পারে। গবেষণা বলছে, ৬ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ১৫০ গ্রাম বেগনি আলু খেলে শরীরে প্রদাহ কমে। ভারী, কার্ব-সমৃদ্ধ খাবারের পরেও বেগনি আলু হজমে সাহায্য করে ও প্রদাহ কমায়।
৪. ক্যানসার প্রতিরোধের সম্ভাবনা
বেগনি আলুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট কোলন ক্যানসারের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী বিটা-ক্যাটেনিনকে ধীর করে দেয় এবং অন্ত্রের প্রদাহ কমায়। ব্লাডার ক্যানসারের কোষ দমনেও এর কার্যকারিতার ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও আলু কখনও চিকিৎসার বিকল্প নয়, প্রতিরোধে এর ভূমিকা আশাব্যঞ্জক।
৫. মানসিক চাপ কমাতে
বেগনি আলু খেলে বিরক্তি, বিষণ্ণতার মতো মানসিক চাপের উপসর্গ কমে, যার পিছনে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন ও গাট-ব্রেন অ্যাক্সিসের সংযোগ।
সাধারণত সবার জন্য এই আলু নিরাপদ। তবে যাঁদের কিডনির সমস্যায় পটাশিয়াম কম খেতে বলা হয়েছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডায়াবিটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি সুগার বাড়াতে পারে, তাই প্রোটিন বা ফাইবারের সঙ্গে খেলে সুগারের স্পাইক কম হবে।
সাধারণ বাজারে গেলে বেগনি আলু চোখে পড়বে না। তবে অনলাইনে এই আলুর খোঁজ পাবেন। ততটাও সহজলভ্য নয় বলে, দামও অনেকটাই বেশি। প্রতি কেজির দাম ৫০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে।
