নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে শাকিলের জানাজার পূর্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র জনরোষ ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় জানাজায় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী ও সাধারণ মুসল্লিরা স্লোগান দিয়ে এমপির বক্তব্য পণ্ড করে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জানাজা শুরুর প্রাক্কালে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, ‘প্রিয় ভাইয়েরা আমার, আমার একটা কথা শুনতে হবে দাদারা।’ তাঁর মুখ থেকে এই বাক্য বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থিত জনতা ও দলীয় নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরিবেশ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য থামিয়ে দেন। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু পরিস্থিতি সামাল দিতে বক্তব্য রাখেন। এরপর এমপি আব্দুল আজিজ তাঁর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিলে মাঠে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে হুইপ দুলু দ্রুত মাইক হাতে নিয়ে মুসল্লিদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
জানাজা শেষে এই ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। এর জেরে পরবর্তীতে চাঁচকৈড় বাজারের সুপারিহাট রোডে আমেরিকাপ্রবাসী রাসেলের মালিকানাধীন ‘রাশ আরবানী মেগা শপিং মল’-এ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে বহুল আলোচিত শাকিল হত্যা মামলায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল আদালত। এদিকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত প্রকৃত কুশীলবদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শোকার্ত পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
