আগরার বিলাসবহুল হোটেলে ওয়েটারকে চড় মারায় এক অতিথিকে আজীবন নিষিদ্ধ করলেন হোটেল কর্তৃপক্ষ। তেমনটাই জানালেন এসএলএমজি বেভারেজেস প্রাইভেট লিমিটেড-এর যুগ্ম ম্যানেজিং ডিরেক্টর পরিতোষ লধানি। তিনি জানিয়েছেন, আগরার ওই বিখ্যাত এবং বিলাসবহুল হোটেলে এক অতিথিকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে কারণ তিনি হোটেলের রেস্তরাঁয় কর্মরত এক ওয়েটারকে চড় মেরেছিলেন।
সিনসিয়ার ডেভেলপার্স-এর যুগ্ম ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসাবে ওই হোটেল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন লধানি। পেশাদারদের সমাজমাধ্যম ‘লিঙ্কডইন’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমাদের হোটেলের এক অতিথিকে আমি আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ (ব্ল্যাকলিস্ট) করেছি, কারণ তিনি আমাদের ওয়েটারের সঙ্গে জঘন্য আচরণ করেছিলেন।’’ লধানি আরও লিখেছেন, ‘‘ওই ওয়েটারের নাম কান্তি। আগরার কাছেই একটি ছোট গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। কান্তি আমাদের রেস্তরাঁয় এক অতিথির সেবা করছিলেন। তিনি খুব ভাল ইংরেজি বলতে পারেন না, যার ফলে ওই অতিথির সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়। আর সেই অতিথি তাঁকে চড় মেরে বসেন। হ্যাঁ একজন মানুষ কেবল নিজের কাজ করার জন্য সজোরে চড় খেয়েছেন।’’
তবে যে বিষয়টি লধানিকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে, তা হল কান্তির প্রতিক্রিয়া। তিনি জানিয়েছেন, চড় খেয়েও কান্তি কোনও প্রতিবাদ করেননি বা ওই কথা কাউকে জানাননি। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁর কাছে চাকরিটি অত্যন্ত মূল্যবান। তাই চাকরি হারানোর ঝুঁকির চেয়ে তিনি অপমান সহ্য করে নেওয়াকেই শ্রেয় মনে করেছিলেন। যদিও ঘটনাটি জানার পর পরই দ্রুত পদক্ষেপ করেন হোটেল কর্তৃপক্ষ। পরের দিন থেকেই ওই অতিথির হোটেলটিতে প্রবেশের উপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। লধানির কথায়, ‘‘আপনি কতটা ধনী, কতটা প্রভাবশালী বা আমাদের হোটেলে কত টাকা খরচ করছেন, তা আমার কাছে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার দলের কোনও সদস্যকে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই। আর শারীরিক নির্যাতনের কথা তো বলাই বাহুল্য!’’
https://www.linkedin.com/posts/paritoshladhani_i-blacklisted-1-guest-from-our-taj-agra-property-activity-7520344785690353664-NL6E?utm_source=li_share&utm_content=feedcontent&utm_medium=g_dt_web&utm_campaign=copy
লিঙ্কডইনের ওই পোস্টে লধানি আরও লিখেছেন, ‘‘এটি একটি কঠিন শিক্ষা। তবে প্রতিটি ব্যবসার মালিক, ডিরেক্টর বা প্রধানের এটি বোঝা প্রয়োজন যে, যদি আমাদের কর্মীরা নিজেদের মর্যাদার পক্ষে দাঁড়াতে ভয় পান, তবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদেরই দায়িত্ব।’’
লধানির ওই পোস্ট সমাজমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) শিল্পখাতে, যেখানে গ্রাহকদের প্রায়শই রাজকীয় মর্যাদায় পরিষেবা দেওয়া হয়, সেখানে এক জন কর্মীর গায়ে হাত তোলার নিন্দায় সরব হয়েছে নেটপাড়া। পাশাপাশি লধানির প্রশংসাতেও পঞ্চমুখ হয়েছেন নেটাগরিকেরা। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘সংস্থার এই পদক্ষেপ কর্মীদের মধ্যে অনেক আত্মবিশ্বাস জোগায়। আপনার করা পদক্ষেপ আমার দারুণ লেগেছে। আমিও আপনাদের হোটেলে থেকেছি এবং সেখানকার কর্মীরা সব সময়ই অত্যন্ত বিনয়ী। আমার শেষ সফরের সময় আমরা যখন নীচের তলার কফি শপে ছিলাম, তখন আমার ছেলে ঠান্ডায় কাঁপছিল। এক জন কর্মী তা লক্ষ করেন এবং কোনও কিছু বলার আগেই তার জন্য একটি কম্বল নিয়ে আসেন। তাঁর ওই বিবেচনাবোধ আমাদের মুগ্ধ করেছিল।’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি প্রশংসনীয়। আমাদের সহকর্মীরা বিশ্বাস করেন যে আমরা তাঁদের খেয়াল রাখব। নেতৃত্বের গুণাবলী এবং দল গঠনে এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলি অনেক বড় ভূমিকা রাখে।’’
