কালবেলা · general
সাধারণ-ইংলিশ মিডিয়াম-কারিগরি শিক্ষায় কোরআন-হাদিস বাধ্যতামূলকের দাবি
২৭/১০/২০২৬

মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নিপীড়ন, বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণ, ইংলিশ মিডিয়াম ও কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় পবিত্র কোরআন ও হাদিস শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে ‘হিফজুল কোরআন’ কোর্স চালুর দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। অন্যথায়, এ বিষয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকার রয়েছে। ইসলাম ধর্মে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে এতে। নোটিশদাতার ভাষ্য, দেশের অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নৈতিক চরিত্র গঠন এবং ধর্মীয় জ্ঞানে শিক্ষিত করতে আগ্রহী। কিন্তু বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নিপীড়ন, বলাৎকার, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি করছে।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, মাদরাসায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও অনেক অভিভাবক সন্তানদের সেখান থেকে সরিয়ে নিতে দ্বিধায় পড়ছেন। কারণ, সাধারণ, ইংলিশ মিডিয়াম ও কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ ও পদ্ধতিগত ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই বলে তারা মনে করেন। এতে সন্তানদের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ বজায় রাখার মধ্যে অভিভাবকদের সংকটে পড়তে হচ্ছে।
নোটিশদাতার মতে, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের নিরাপদ প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। তবে ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে হেয় করা বা বন্ধ করা এ নোটিশের উদ্দেশ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে শিক্ষাসংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এতে সাধারণ ও ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষায় প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব পাঠ্যক্রমে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ‘পবিত্র কোরআন শিক্ষা’ ও ‘হাদিস শিক্ষা’ নামে দুটি পৃথক কোর্স বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে যারা পবিত্র কোরআন মুখস্থ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য সাধারণ, ইংলিশ মিডিয়াম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিনের বেলায় নিরাপদ পরিবেশে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে ‘হিফজুল কোরআন’ কোর্স চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। নোটিশদাতার যুক্তি, এতে শিক্ষার্থীরা পরিবার থেকে দূরে না গিয়েও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে হিফজ শিক্ষার সুযোগ পাবে।
এ ছাড়া অমুসলিম শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজ নিজ ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা গ্রহণের সমমর্যাদার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এনসিটিবি, ইউজিসি ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে এসব কোর্স চালুর কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিশুদের নিরাপত্তা এবং মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষার স্বার্থে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗