একসময় পাটকাঠি ছিল কেবল রান্নার জ¦ালানি কিংবা ঘরের বেড়া তৈরির উপকরণ। সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার ব্যবহার, বেড়েছে কদরও। এখন জ¦ালানি থেকে শুরু করে পানের বরজ, গৃহস্থালির নানা সামগ্রী, শৌখিন পণ্য ও পার্টিকেল বোর্ড তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছেÑ পাটকাঠি। ফলে মাগুরার শালিখায় পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও হয়ে উঠেছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের বাড়তি আয়ের উৎস। এই কাঠিকে ঘিরেই নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন এলাকার অনেক মানুষ।
কাঠিতে বাড়তি আয়ের আশা
শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর, বুনাগাতি, বরইচারা ও ধনেশ্বরগাতিসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন পাটকাঠি শুকানো ও আঁটি বাঁধার ব্যস্ততা। রাস্তার পাশে বাঁশের আড়া তৈরি করে শুকানো হচ্ছেÑ পাটকাঠি। কোথাও আবার কয়েকটি কাঠি একত্র করে আঁটি বাঁধছেন কৃষকেরা। পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর কাঠি বিক্রি করে চাষের খরচের কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
পাটকাঠির চাহিদা বাড়ায় গ্রামাঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা তা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পার্শ্ববর্তী শহরের বাজারে। স্থানীয় কৃষকের কাছ থেকে ১০-১২ টাকা আঁটিপ্রতি কিনে শহরে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা। এতে পরিবহন খরচ বাদে ভালো আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাটকাঠি ব্যবসায়ী রফিক মোল্যা বলেন, এখন পাটকাঠি বিক্রির মৌসুম। কৃষকদের কাছ থেকে ১০-১২ টাকা আঁটিপ্রতি কিনে শহরে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি করেন তারা। এতে ভ্যানপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা আয় হয় বলে জানান তিনি।
আঁশ ছাড়ানোর বিনিময়ে কাঠি
শালিখার তালখড়ি ইউনিয়নের দীঘল গ্রামে খাল-বিল ও নদীর ধারে দেখা যায়, অনেক নারী পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত। পারিশ্রমিক হিসেবে টাকা না নিয়ে তারা সংগ্রহ করছেন পাটকাঠি। সেই কাঠি ভ্যানে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেনÑ রান্নার জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য।
এমনই একজন শিউলী খাতুন জানান, বাড়িতে জ¦ালানির সংকট থাকায় তিনি পাট বাছতে এসেছেন। কাজের বিনিময়ে পাওয়া পাটকাঠি দিয়ে তার পরিবারের রান্নার জ¦ালানির চাহিদা কিছুটা মিটবে। পান্না খাতুন বলেন, দৈনন্দিন জীবনে পাটকাঠি নানা কাজে লাগে। তাই পাটের আঁশ ছাড়ানোর বিনিময়ে কাঠি সংগ্রহ করতে এসেছেন তিনি।
এই নারীদের কাছে পাটকাঠি শুধু জ¦ালানি নয়, সংসারের ব্যয় কমানোরও একটি উপায়। তাদের শ্রমে কৃষকের পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ যেমন এগিয়ে যাচ্ছে, তেমনি নিজেরাও পাচ্ছেন প্রয়োজনীয় জ¦ালানি।
কৃষকের খরচ কমায় পাটকাঠি
বরইচারা গ্রামের কৃষক সুদীপ বিশ্বাস জানান, তিনি পাঁচটি স্থানে পাট জাগ দিয়েছেন। প্রতিটি স্থানেই অনেক নারী পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। তাদের অর্থের পরিবর্তে পাটকাঠি দেওয়া হচ্ছে। এতে পাট চাষে বিনিয়োগ করা অর্থের একটি অংশ পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। পুকুরিয়া গ্রামের তোবারেক মোল্যা বলেন, পাট চাষের ব্যয় কমাতে আঁশ ছাড়াতে আসা নারীদের অর্থের পরিবর্তে পাটকাঠি দেওয়া হচ্ছে।