স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা যেন ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের নানাভাবে পদত্যাগ করতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। এবার সেই তালিকায় সরাসরি যুক্ত হলেন খোদ বিওএ-এর মহাপরিচালক। দেশের শীর্ষ এই ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক উইং কমান্ডার (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদকে পদত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়ে ফোন করেছেন বিওএ-এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ বি এম শিফাউল কবির। তবে বিওএ মহাপরিচালকের এমন অনাকাক্সিক্ষত অনুরোধের মুখে পদত্যাগ করতে সাফ মানা করে দিয়েছেন বিওএ-এর এই জ্যেষ্ঠ সদস্য। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কার্যনির্বাহী কমিটির (ইসি) সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়া তিনি কোনো অবস্থাতেই পদত্যাগ করবেন না। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ফোনালাপকে কেন্দ্র করে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে চলমান এই অস্থিরতা নতুন মোড় নিয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত উইং কমান্ডার (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদের কাছে বিওএ মহাপরিচালকের দেওয়া এই ফোন কল এবং এর পেছনের প্রেক্ষাপট নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ফোনালাপ ও সাম্প্রতিক বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, বিওএ মহাপরিচালক তাঁকে পদে ইস্তফা দেওয়ার অনুরোধ জানালে তাৎক্ষণিক জবাবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, নিজে থেকে পদত্যাগ করার কোনো ইচ্ছে তাঁর নেই। বিওএ-এর প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি জানানÑকার্যনির্বাহী কমিটির মিটিংয়ে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তিনি কেবল সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন। সুনির্দিষ্ট যৌক্তিক কারণ ও ইসি কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া এককভাবে পদত্যাগ করার প্রশ্নই ওঠে না। কথোপকথনের একপর্যায়ে মহাপরিচালকের এ ধরনের অনুরোধের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রবীণ এই সংগঠক। তিনি উল্লেখ করেন, বিওএ-এর প্রশাসনিক বা বেতনভুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে কোনো নির্বাচিত ইসি সদস্যকে পদত্যাগের অনুরোধ করা বা এই বিষয়ে কথা বলা তাঁর দাপ্তরিক দায়িত্ব বা এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।
ফোনালাপের একপর্যায়ে "পদত্যাগ করলে ভালো হতো" মর্মে মত দেওয়া হলে মহিউদ্দিন আহমেদ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেনÑকোন যুক্তিতে বা কেন তিনি পদত্যাগ করবেন? তবে পরবর্তীতে কোনো বাদানুবাদে না গিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহেই ফোনালাপের ইতি ঘটে।অভিযোগ ও ফোনালাপের বিষয়ে বিওএ মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ বি এম শিফাউল কবিরের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিওএ থেকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে ইতোমধ্যে ৯ জন শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগকারী কর্মকর্তারা হলেনÑ
সহ-সভাপতি: সারওয়াত সিরাজ শুক্লা (সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা) এবং মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী (সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন)।উপ-মহাসচিব: এম এ কুদ্দুস খান (সাধারণ সম্পাদক, বক্সিং ফেডারেশন)। নির্বাহী সদস্য: ফারহাদ জেসমিন লিটি (সাবেক ক্রীড়াবিদ), আবদুল্লাহ হেল বাকী (অলিম্পিয়ান ও শুটার), আকরাম খান (সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির সাবেক পরিচালক), শেখ বশির আহমেদ (ক্রীড়া সংগঠক), মহিউদ্দিন আহমেদ মহি (সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কাবাডি ফেডারেশন) এবং মো. ইকবাল হোসেন (সাবেক অ্যাথলেট ও সংগঠক)।
কর্মকর্তারা দাপ্তরিকভাবে পদত্যাগপত্রে "ব্যক্তিগত কারণ" দর্শালেও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ভেতরের অদৃশ্য চাপ ও নির্বাচিত সদস্যদের পদত্যাগের অনুরোধের মতো ঘটনাগুলো সামনে আসায় পদত্যাগের মূল কারণ নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, একজন নির্বাচিত ইসি সদস্যকে দাপ্তরিক পদের কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক পদত্যাগের অনুরোধ করা বিওএ-এর অভ্যন্তরীণ গঠনতন্ত্র, বিধিবিধান ও প্রশাসনিক ভারসাম্যের পরিপন্থী। কার্যনির্বাহী কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এই ইস্যু এবং পদত্যাগ সংকট নিয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন।
