লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাটে বালুর ফিল্ডের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা মোল্লা ও ইমতিয়াজের মালিকানাধীন বলে পরিচিত একটি বালুর ফিল্ড পরিচালনা ও নিজের মালিকানা দাবি করছেন বিএনপি নেতা জামাল হোসেন। সম্প্রতি ওই ফিল্ডসহ একাধিক ফিল্ডে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন জামাল। তবে তাঁর অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রমাণ উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন জেলা ছাত্রদল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বাদশা ও ইমতিয়াজদের বালুর ফিল্ডটি বিএনপি নেতা জামাল হোসেন পরিচালনা করছেন। তবে ফিল্ডটির প্রকৃত মালিকানা এবং পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ফিল্ডটির কার্যক্রমের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাদের স্বার্থ জড়িত। এমনকি ফিল্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সহায়তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া তাঁর বালুর ফিল্ডের কারনে, মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় মেঘনা নদী ও রহমতখালী খালের ওপর নির্মিত সুইচগেটের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ফিল্ডটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রশাসনও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও সতর্ক করেছেন। তবে মন্ত্রীর নির্দেশ ও প্রশাসনের অভিযান কোনোকিছু কর্নপাত করছেন না জামাল হোসেন। জোরপূর্বক বালুর ফিল্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
এদিকে রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাদশা ও ইমতিয়াজসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বালুর ফিল্ডে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতা জামাল হোসেনের দাবি, তাঁর ফিল্ডসহ আরও কয়েকটি ফিল্ডে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা, হিসাবের খাতা ও সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রমাণ ছাড়া সংগঠনটির নেতাকর্মীদের দায়ী করা হলে জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা বিএনপি সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না করলে এবং জামাল ক্ষমা না চাইলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করে বলেন, জামাল বিএনপির নাম ভাঙিয়ে জেলাজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করছেন। বাস্তবে বিএনপির কোন পদ-পদবিতে তিনি নেই। সে একসময় জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এখনো গোপনে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। যার প্রমাণ, আওয়ামী লীগ নেতার ওই ফিল্ড থেকে চর রমনির জামায়াত নেতা হানিফ ও অন্যান্য নেতাদের বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন। গতকাল দুবৃত্তদের হামলা ছাত্রদলকে দোষারোপ করেছেন, মূলত জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা জামাল হোসেন বলেন, কারও পাহারাদার হিসেবে নয়, বালুর ফিল্ডে আমার মালিকানা রয়েছে। এ জন্যই নিয়মিত আসা-যাওয়া করে ব্যবসা করছি। রোববার সন্ধ্যার পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমার ফিল্ডসহ আরও কয়েকটিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
সদর উপজেলা পশ্চিম বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান খোকন বলেন, জামাল হোসেন দলীয় কোন পদপদবিতে নেই। তবে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া পূর্বে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি জানা নেই।
আরও বলেন, মজুচৌধুরীর হাটে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতাদের মালিকানাধীন বালুর ফিল্ডে দুবৃত্তদের হামলার ঘটনায় ছাত্রদলকে দায়ী করার বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে জবাব চাওয়া হবে জামাল হোসেনের কাছে।
