বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, স্ত্রী যদি স্বামীর কাছে যৌতুক দাবি করেন এবং সেই দাবিকে কেন্দ্র করে তাকে নির্যাতন করেন, তাহলে স্বামীও আইনগত প্রতিকার চাইতে পারেন। যৌতুকের অভিযোগে শুধু স্ত্রী নয়, আইন অনুযায়ী দায়ী যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ধরা যাক, ২০১৩ সালে এক দম্পতির বিয়ে হয় এবং তাদের সাড়ে তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামী একটি ছোট ব্যবসা পরিচালনা করেন। সম্প্রতি তার বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি ওয়ারিশসূত্রে কিছু সম্পত্তি লাভ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য স্ত্রী তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পাশাপাশি প্রতি মাসের সম্পূর্ণ আয় স্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার জন্যও চাপ দেন।
স্বামী এসব দাবি পূরণে অপারগতা প্রকাশ করলে স্ত্রী তাকে বিভিন্ন সময়ে চড়, থাপ্পড়, কিল-ঘুষিসহ শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্বামী কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী, অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃতি বিবেচনায় স্বামী যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন। যৌতুক দাবি করা এ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারেন।
যৌতুক নিরোধ আইনে যৌতুক দাবি, প্রদান ও গ্রহণের সঙ্গে জড়িত অপরাধের জন্য কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, ঘটনার সময়কাল এবং প্রমাণের বিষয়গুলো বিবেচনা করা জরুরি। জেনেশুনে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করলেও আইনি পরিণতি হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: স্ত্রীর পক্ষ থেকে দেনমোহর বা ভরণপোষণ দাবি করা আর যৌতুক দাবি করা এক বিষয় নয়। দেনমোহর ও ভরণপোষণ আইনস্বীকৃত অধিকার; অন্যদিকে, আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী যৌতুক দাবি পৃথক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অতএব, স্ত্রী যৌতুক দাবি করে শারীরিক নির্যাতন করলে স্বামী অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনজীবীর পরামর্শে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। নির্যাতনের ঘটনায় চিকিৎসার কাগজপত্র, প্রাসঙ্গিক বার্তা, সাক্ষীর বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা সহায়ক হতে পারে।
আইনি সতর্কতা: এটি একটি সাধারণ তথ্যভিত্তিক আলোচনা। বাস্তব ঘটনায় মামলা করার আগে আইনজীবীর মাধ্যমে অভিযোগের বিবরণ ও প্রযোজ্য আইনের ধারা যাচাই করে নেওয়া উচিত।