রাশেদুল হাসান
এক সপ্তাহের মধ্যে সৌদি আরবের মোট পাঁচটি বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক হামলা হয়েছে। এসব ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা, আঞ্চলিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। হামলায় এক ডজনের বেশি নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশীও রয়েছেন। প্রাণহানির এ ঘটনা তাই শুধু একটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইয়েমেনের দীর্ঘ সংঘাত, সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রভাব, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক কৌশল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা। ঘটনার সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। রিয়াদে সামনে রয়েছে জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতের দুটি বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে সৌদি আরব নিজেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে চায়। কিন্তু রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দরই যদি বারবার হামলার লক্ষ্য হয়, তাহলে সে উদ্যোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এখন সৌদি আরবের সামনে শুধু হামলা ঠেকানোর চ্যালেঞ্জ নয়, বিদেশি বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা ধরে রাখার পরীক্ষাও রয়েছে।
হামলার বিভিন্ন পর্যায়ের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনে কিছু অমিল রয়েছে। কোনো বিবরণে আগের হামলাগুলোয় চারজন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, আবার সর্বশেষ হামলার হিসাবে প্রাণহানির সংখ্যা অন্তত ১২। তাই সব ঘটনার হিসাব এক করে না দেখে সময়ভিত্তিক সরকারি তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশী এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। এমন হামলার প্রভাব কোনো দেশের সীমান্তে আটকে থাকে না। বিমানবন্দরে কর্মরত মানুষ, যাত্রী ও বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা এর শিকার হন। নিহত দুই বাংলাদেশীর ঘটনা আমাদের জন্য বিষয়টিকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে। সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী কাজ করেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও প্রবাসী পরিবারগুলোর জীবিকার প্রশ্নও এখানে জড়িত।
হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সৌদি যুবরাজের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও বিবেচনায় রেখেছেন। তবে এমন বক্তব্যকে সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ইয়েমেন-বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক দূত বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলাকে সংঘাতের গুরুতর বিস্তার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কাতার, মিসর, জর্ডান, ওমান, পাকিস্তান ও ফিলিস্তিন সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। ওমানের বক্তব্যে সংযমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে একটি পার্থক্য লক্ষ করা দরকার। কোনো দেশের পাশে দাঁড়ানো আর সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এক বিষয় নয়। প্রতিটি দেশের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও কূটনৈতিক হিসাব আলাদা। তাই নিন্দা ও সংহতির পাশাপাশি আলোচনার পথ খোলা রাখার উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিম দেশগুলোর সহযোগিতা যদি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা এবং সংঘাত প্রশমনে কাজে লাগে, তাহলে তা কেবল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার চেয়ে বেশি ফল দিতে পারে। এ সংঘাতের মধ্যে রিয়াদের বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করার তাৎপর্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শুধু যাত্রী পরিবহনের অবকাঠামো নয়; এটি একটি দেশের বাণিজ্য, পর্যটন, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। সেখানে হামলা হলে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে এবং বিমান সংস্থাগুলোকে ফ্লাইট বাতিল বা পথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ব্যবসায়িক সফর, পণ্য পরিবহন ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের যাতায়াতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে তেলনির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার চেষ্টা করছে। শিল্প, পর্যটন, প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেশটি নতুন অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়তে চায়। এ পরিকল্পনার জন্য রাজধানী ও প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বারবার হামলা হলে শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতিই নয়, দীর্ঘমেয়াদে দেশটির ঝুঁকি সম্পর্কে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ধারণাও বদলে যেতে পারে।
অসম যুদ্ধে অপেক্ষাকৃত দুর্বল পক্ষ অনেক সময় প্রতিপক্ষের অর্থনীতি, জনমত ও মনোবলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়। বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলাকে সেই কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। তবে নির্দিষ্ট হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও তথ্য দরকার। উদ্দেশ্য যা-ই হোক, বেসামরিক বিমানবন্দরকে নিশানা করার ফলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন। কোনো সামরিক সংঘাতের যুক্তি যাত্রী, শ্রমিক বা অন্য বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করার বৈধতা দিতে পারে না।
এক সপ্তাহে একই বিমানবন্দরে একাধিক হামলা সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে হামলা হয়েছে বলেই পুরো ব্যবস্থা অকার্যকর, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন, উৎক্ষেপণের স্থান, প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ ছাড়া সামরিক সক্ষমতার নির্ভরযোগ্য মূল্যায়ন করা কঠিন। একটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক কম থাকার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এই তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। হামলার পর কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ নীরবতা জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে খবর এসেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব না-ও হতে পারে। কিন্তু তথ্যের ঘাটতি দীর্ঘ হলে গুজব ছড়ায়, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ে এবং কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা বজায় রেখেও নিয়মিত ও যাচাই করা তথ্য জানানো জরুরি।
ইয়েমেনের ভৌগোলিক অবস্থান এ সংঘাতকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। দেশটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত। বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল করে। এ পথ অনিরাপদ হলে জাহাজকে বিকল্প পথে যেতে হতে পারে, বাড়তে পারে পরিবহন ব্যয় ও পণ্য পৌঁছানোর সময়। এর প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থায়। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত আর শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়; এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বিশ্ববাণিজ্যের সঙ্গেও যুক্ত।
রিয়াদে ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর জ্বালানি খাতের একটি বড় সম্মেলন এবং ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের সূচি রয়েছে। আয়োজকেরা হামলার পরও নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান করার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু নিরাপত্তার আশ্বাসের পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি রিয়াদ ভ্রমণের বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করেছে। কিছু বিমান সংস্থা ফ্লাইট স্থগিত করেছে বা পথ পরিবর্তন করেছে। কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা সফরের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছেন বলেও খবর এসেছে। তবে এসব তথ্য থেকে সব অতিথি সফর বাতিল করেছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনের গুরুত্ব শুধু আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ নয়। এসব আয়োজনের মাধ্যমে সৌদি আরব বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরতে চায়। কিন্তু অতিথিরা নিরাপদে পৌঁছাতে পারবেন কি না, বিমান চলাচল কতটা স্বাভাবিক থাকবে এবং সম্মেলনস্থল ও হোটেলগুলোর নিরাপত্তা কেমন হবে—এসব প্রশ্নের উত্তরও তাঁদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে। ঝুঁকির কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা সফর বাতিল করলে বা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিলে তার প্রভাব আলোচনার বাইরেও পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অভিযানে যোগ দেবে কি না, তা পরিস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা। সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। হামলায় একজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর খবর ওয়াশিংটনের ওপর প্রতিক্রিয়া জানানোর চাপ বাড়াতে পারে। তবে সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের ঝুঁকিও কম নয়। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে, ইরান-সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং বিদ্রোহীরা সৌদি আরব, লোহিত সাগরের নৌপথ কিংবা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা আঘাতের চেষ্টা করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা বিভিন্ন রূপ নিতে পারে। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ কিংবা কূটনৈতিক সমন্বয়ের মতো পদক্ষেপের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পার্থক্য রয়েছে। তাই রাজনৈতিক বক্তব্যকে সামরিক সিদ্ধান্তের সমতুল্য ধরে নেয়া উচিত নয়।
পাকিস্তান ও তুরস্কের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। পাকিস্তান হামলার নিন্দা জানিয়ে রিয়াদের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সংহতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। আগস্টে তিন দেশের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তুরস্কও সৌদি আরবের নিরাপত্তা-চাহিদা পূরণে সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু প্রতিরক্ষা সহযোগিতা মানেই সেনা পাঠানো নয়। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তাও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এখনই বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ অনিবার্য, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ নেই। কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সংঘাত সীমিত রাখার উদ্যোগের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি হামলার জবাবে আরও বড় হামলা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তখন কোনো একটি পক্ষের পক্ষে সংঘাতের পরিসর নির্ধারণ করা কঠিন হবে। সামরিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার গুরুত্ব এখানেই।
সৌদি আরবের এ সংকটে বাংলাদেশের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী কাজ করেন। তাঁদের আয় ও পরিবারের জীবিকা যেমন সৌদি আরবের স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত, তেমনি তাঁদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুজন বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনা এই উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে।
বিমান চলাচল ব্যাহত হলে কর্মীদের যাতায়াত, দেশে ফেরা এবং নতুন কর্মীদের সৌদি আরবে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে কর্মস্থলে যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবনেও ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বাংলাদেশ দূতাবাসের নিয়মিত নির্দেশনা, জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা, নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় কনসুলার সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রবাসীদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পরামর্শ হালনাগাদ করাও দরকার।
বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক দিকেও নজর রাখতে হবে। লোহিত সাগরের নৌপথে অস্থিরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় ও জ্বালানির বাজারে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব আমদানি ব্যয়, পণ্য সরবরাহ এবং প্রবাসী আয়ের ওপরও পড়তে পারে। তাই তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা উচিত।
রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, সামরিক শক্তি বা উন্নত প্রতিরক্ষা একা কোনো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। নিরাপত্তা নির্ভর করে কার্যকর প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি আঞ্চলিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক সমাধান এবং সংঘাতের ঝুঁকি সম্পর্কে বাস্তবসম্মত মূল্যায়নের ওপর। সৌদি আরবের জন্য এখন জরুরি হামলা প্রতিহত করা, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখা। একই সঙ্গে ইয়েমেনের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত হওয়া থেকে ঠেকাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
শেষ পর্যন্ত এই সংকটের মূল্যায়ন শুধু কতটি হামলা ঠেকানো গেল, তা দিয়ে হবে না। দেখতে হবে, সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা সুরক্ষিত থাকল এবং রাজনৈতিক সমাধানের দিকে কতটা অগ্রগতি হলো। ইয়েমেনের যুদ্ধ, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও লোহিত সাগরের স্থিতিশীলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে কেবল সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করলে সংকটের স্থায়ী সমাধান মিলবে না। প্রতিশোধের পাল্টাপাল্টি আঘাত থামিয়ে আলোচনার পথ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
