

ছবি:সংগৃহীত
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও জয় ছিনিয়ে আনলেন লুলা দা সিলভা। ৫১ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্টের মসনদে বসতে যাচ্ছেন বামপন্থি এই নেতা। তিনি ঐতিহ্যগতভাবে কট্টর ফিলিস্তিনপন্থি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কাতার-ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লুলার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। লুলাকে বিজয়ী করে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেছে ব্রাজিলের নির্বাচন কমিশন। ব্রাজিলের নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ৯৯ শতাংশ ব্যালট গণনার মধ্যে লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট। অপরদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট। যা দুজনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইকে বোঝায়।
উল্লেখ্য, ফ্লাভিও বোলসোনারোর বাবা জেয়ার বোলসোনারে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট হন বামপন্থি লুলা দ্য সিলভা।
২৫ বছর পর নিউইয়র্কের প্রবীণ সেবাকেন্দ্র চালু করলেন মেয়র মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রঙ্কসে ২৫ বছর ধরে বন্ধ থাকা প্রবীণদের একটি সেবাকেন্দ্র আবার চালু হয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সংস্কার করা এই তিনটি কেন্দ্র থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দা উপকৃত হবেন। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর দাবিতে কাজ করে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২২ অক্টোবর মেয়র জোহরান মামদানি স্থানীয় বাসিন্দা ও নগর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ইডেনওয়াল্ড হাউসেসের কেন্দ্রটির পুনরায় উদ্বোধন করেন। একই দিনে আবাসন এলাকায় কমিউনিটি সেন্টার ও শিশু পরিচর্যাকেন্দ্রও নতুন করে চালু করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র মামদানি বলেন, ইডেনওয়াল্ডের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রয়োজনীয় আবাসন ও কমিউনিটি সুবিধা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করেছেন। নতুন করে চালু হওয়া কেন্দ্রগুলো বাসিন্দাদের একত্র হওয়ার, বিভিন্ন সেবা পাওয়ার এবং নিজেদের কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার জায়গা হবে। এনওয়াইসিএইচএ কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, আবাসনের পাশাপাশি কমিউনিটি অবকাঠামো উন্নত করা বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেন্দ্রগুলো আবার চালু হওয়াকে তাই স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিনের একটি প্রয়োজন পূরণের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পুনরায় চালু হওয়া প্রবীণদের কেন্দ্রটির নাম রাখা হয়েছে ওয়াল্টার জে. ম্যাকনিল সিনিয়র সেন্টার। ইডেনওয়াল্ড টেন্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের দীর্ঘদিনের সভাপতি ওয়াল্টার ম্যাকনিল কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর দাবিতে বাসিন্দাদের নিয়ে আন্দোলন করেছেন। তার নেতৃত্বে স্থানীয়রা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কেন্দ্রটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ম্যাকনিল বলেন, এই উদ্যোগের পেছনে অনেক মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের পর কেন্দ্রটি ফিরে পাওয়া তাদের জন্য আনন্দের। কেন্দ্রটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে কমিউনিটির প্রতি তার দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে। সংস্কারের পর প্রবীণদের কেন্দ্রটিতে বাণিজ্যিক রান্নাঘর, অনুষ্ঠান আয়োজনের জায়গা ও কম্পিউটার ল্যাব যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য সামাজিক সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ব্রঙ্কসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা রিজিওনাল এইড ফর ইন্টারিম নিডস বা রেইন (R.A.I.N.) কেন্দ্রটির মাধ্যমে খাবার ও যাতায়াত সহায়তা দেবে। এসব সুবিধার লক্ষ্য হলো প্রবীণদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের সামাজিক যোগাযোগ ও কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানো। কেন্দ্রটি চালু হওয়ায় স্থানীয় প্রবীণদের এক জায়গায় মিলিত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগও বাড়বে। এলাকার কমিউনিটি সেন্টারটিও সংস্কারের পর চালু হয়েছে। এটি পরিচালনা করবে মশুলু মন্টেফিওর কমিউনিটি সেন্টার, যেখানে তরুণদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম থাকবে। কেন্দ্রটিতে নতুন প্রবেশমুখের ব্যবস্থা এবং চলাচলের সুবিধা উন্নত করা হয়েছে। অন্যদিকে, সুসান ওয়াগনার ডে কেয়ার শিশু পরিচর্যাকেন্দ্রে বাইরের খেলার জায়গা সংস্কার, নতুন মেঝে ও পানির পাইপ স্থাপন এবং প্রবেশগম্যতা উন্নত করার কাজ করা হয়েছে। ভবন থেকে সিসাযুক্ত রং অপসারণের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। ফলে একই আবাসন এলাকায় প্রবীণ, শিশু ও অন্যান্য বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবার পরিসর বাড়ানো হয়েছে। এই তিনটি কেন্দ্রের সংস্কারে ব্যয় হয়েছে ৮১ লাখ ডলার। কাজগুলো ইডেনওয়াল্ড হাউসেসের বৃহত্তর ৭৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের আধুনিকায়ন প্রকল্পের অংশ। নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটির (এনওয়াইসিএইচএ) অধীনে থাকা এই আবাসন এলাকায় ২ হাজার ৩৫টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আবাসনগুলোর তাপ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম, জানালা, দেয়াল ও অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কার করা হয়েছে। বাসিন্দাদের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনা তৈরি করে ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। নগর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু আবাসন সংস্কার নয়, বরং বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনমান উন্নত করাও। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়, নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটি (এনওয়াইসিএইচএ)

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ এর কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা!
অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ২৮ অক্টোবর আঘাত হানার আশঙ্কা থাকা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে ওডিশা সরকার। জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে সতর্ক রাখা হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের নিজ নিজ সদর দপ্তরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে জেলা কালেক্টর, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নিয়োজিত অন্য কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। স্কুল-কলেজও বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) পূর্বাভাস দিয়েছে, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ হিসেবে থাকা ঝড়টি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে বাপাটলা ও বিশাখাপত্তনম মাঝামাঝি উপকূল অতিক্রম করতে পারে। বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে, দমকা হাওয়া ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, পুদুচেরি, কারাইকাল এবং তামিলনাড়ুর সংলগ্ন জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলতে পারে। পূর্বাভাসিত আঘাত হানার এলাকা ওডিশার গোপালপুর থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে হলেও দক্ষিণ ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে ভারি বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসসহ সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে ওডিশা সরকার। সংবাদ সংস্থা পিটিআই এ খবর দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি কর্মকর্তাদের জনসুরক্ষা, সরিয়ে নেওয়া ও জরুরি সাড়াদানকে অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি শূন্য হতাহত নিশ্চিত করার সরকারি লক্ষ্যের পুনরাবৃত্তি করেন। ঘূর্ণিঝড় ঘনিয়ে আসায় সব জেলা কালেক্টর, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং গুরুত্বপূর্ণ দফতরে নিয়োজিত অন্য কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করেছে ওডিশা সরকার। সাধারণ প্রশাসন বিভাগের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের অবিলম্বে নিজ নিজ সদর দপ্তরে ফিরতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ভারতের তামিলনাড়ুর নয়টি বন্দরে ঘূর্ণিঝড় সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে। জেলেদের সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

প্রদর্শনীতে ঢেউটিনে মোড়ানো অদ্ভুত গাড়ি, চোখ আটকে যাচ্ছে সবার
বিলাসবহুল গাড়ির ঝলমলে প্রদর্শনীতে যদি হঠাৎ দেখা মেলে মরিচা ধরা ঢেউটিনে মোড়ানো একটি গাড়ির, তাহলে চোখ আটকে যাওয়াই স্বাভাবিক! যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডসনভিলে মাউন্টেন মুনশাইন ফেস্টিভ্যালের উদ্দেশে রওনা হওয়া এমনই এক অদ্ভুত গাড়ির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর কেড়েছে। ছবিটি প্রকাশ করেছেন কেনি বেটি নামের এক ব্যবহারকারী। গাড়িটির চেহারা দেখে মনে হতে পারে, কেউ যেন বাড়ির টিনের চালা খুলে একটি গাড়ির গায়ে লাগিয়ে দিয়েছেন! গাড়িটির ছাদ, পেছন ও দুই পাশের বড় অংশ ঢেউটিন দিয়ে আবৃত। কোথাও মরিচার দাগ, কোথাও অসমান ধাতব পাতের জোড়া—সব মিলিয়ে গাড়িটির নকশা একেবারেই ব্যতিক্রমী। সাধারণ গাড়ির মতো ঝকঝকে রং কিংবা আধুনিক সাজসজ্জা না থাকলেও এর অদ্ভুত চেহারা সহজেই মানুষের কৌতূহল জাগাতে পারে। ছবিটি দেখে রসিকতা করে বলা যায়, এটি গাড়ি, নাকি চাকা লাগানো একটি টিনের ঘর! গাড়িটি নিয়ে মাউন্টেন মুনশাইন ফেস্টিভ্যালের পথে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ছবিটির প্রকাশক। ডসনভিলের এই উৎসব ঐতিহাসিক গাড়ি প্রদর্শনী, সংগীত, খাবার ও স্থানীয় ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। ২০২৬ সালের ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে উৎসবটির ৫৯তম আসর। তবে ঢেউটিনের গাড়িটি আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গাড়িটির নির্মাতা কে, কেন এমন নকশা বেছে নেওয়া হয়েছে কিংবা এটি তৈরিতে কত খরচ হয়েছে—এসব প্রশ্নেরও নির্ভরযোগ্য উত্তর মেলেনি। তাই গাড়িটিকে ঘিরে বাড়তি কোনো দাবি না করে ছবির অস্বাভাবিক চেহারাটিই আপাতত আলোচনার মূল বিষয়। আধুনিক গাড়ির বাজারে যেখানে নির্মাতারা বিলাসিতা, গতি ও প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত, সেখানে ঢেউটিনে মোড়ানো এই বাহন যেন একেবারেই অন্য রকম! দামি গাড়ির ভিড়ে এটি কতটা নজর কাড়বে, তা সময়ই বলবে। তবে ছবিটি দেখে একটি প্রশ্ন উঠতেই পারে—গাড়ির শোতে যাচ্ছেন চালক, নাকি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন নিজের টিনের ঘরটিকেও!

শর্ত মেনে বাড়ি কিনলে নিউইয়র্কে মিলবে ১ লাখ ডলার সহায়তা
প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়ি কেনার দারুণ এক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ‘হোমফার্স্ট ডাউন পেমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’-এর আওতায় যোগ্য ক্রেতারা বাড়ি কেনার প্রাথমিক ডাউন পেমেন্ট অথবা ক্লোজিং খরচ মেটাতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো—কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস, ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বাসিন্দারা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। মূলত বাড়ির ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং প্রাথমিক খরচের কারণে যেসব পরিবার নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করতে পারছে না, তাদের পাশে দাঁড়াতেই নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এইচপিডি) এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। সম্প্রতি সেঞ্চুরি ২১-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে সম্ভাব্য ক্রেতাদের এই কর্মসূচির সুবিধা ও যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। এই কর্মসূচির আওতায় এক থেকে চার পরিবারের বসবাসের উপযোগী বাড়ি, কনডোমিনিয়াম এবং কো-অপারেটিভ অ্যাপার্টমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়া যাবে। তবে শর্ত হলো, কেনা বাড়িটি আবেদনকারীর প্রধান বাসস্থান হতে হবে এবং তাকে অবশ্যই প্রথমবার বাড়ি ক্রেতা হতে হবে (অর্থাৎ গত তিন বছরের মধ্যে কোনো বাড়ির মালিক ছিলেন না)। সহায়তা পাওয়ার জন্য পরিবারের আয়সীমা সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে এবং আবেদনকারীদের এইচপিডি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি কেনাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এছাড়া ক্রেতার নিজস্ব তহবিল থেকে অন্তত ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার সক্ষমতা থাকা বাধ্যতামূলক। এই আর্থিক সহায়তা মূলত সাধারণ অনুদানের বদলে শর্তসাপেক্ষে মওকুফযোগ্য ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়, যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওই বাড়িতে বসবাসসহ আনুষঙ্গিক সব শর্ত পূরণ করলে পুরোপুরি মওকুফ হয়ে যেতে পারে।

চালকবিহীন পাতালরেলের পরিকল্পনা, বদলে যেতে পারে যাতায়াতের ভবিষ্যৎ
ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেসের বড় শহরে চালকবিহীন পাতালরেল চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। এতে পরিবহন কর্তৃপক্ষ রেলব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। এর লক্ষ্য হলো ট্রেন চলাচল আরও নিয়মিত করা, যাত্রীসেবা উন্নত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা। রোববার (২৫ অক্টোবর) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। ওয়াশিংটনের মেট্রো কর্তৃপক্ষ রেড লাইন আধুনিকায়নের জন্য প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চালক ছাড়া ট্রেন চালানোর সুযোগ তৈরির বিষয়টিও রয়েছে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হতে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেসেও সান্তা মনিকা পর্বতমালার নিচ দিয়ে প্রস্তাবিত পাতালরেল প্রকল্পে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনায় অপেক্ষার সময় কমানো, ঘন ঘন ট্রেন চালানো এবং প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাধা স্থাপনের বিষয় রয়েছে। তবে চালকবিহীন রেল নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রী সরিয়ে নেওয়া এবং কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলো। অন্যদিকে, সমর্থকদের মতে, যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে স্বয়ংক্রিয় ট্রেন চলাচল আরও দক্ষ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে যাতায়াতের সময়, সেবার নিয়ম এবং গণপরিবহনের অভিজ্ঞতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখনই সব শহরে চালকবিহীন ট্রেন চালু হচ্ছে—এমন নয়। এগুলো পরিকল্পনা ও পর্যালোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।


