উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় পুলিশি ‘এনকাউন্টারে’ মৃত্যু হল কিশোরীকে ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের। পুলিশের দাবি, রাতে অভিযুক্তকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফেরার পথে বন্দুক ছিনিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় প্রহ্লাদ। আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি চালায় পুলিশও। তাতেই মৃত্যু হয় অভিযুক্তের। ঘটনা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এবার সেই বিষয়ে মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, “শাসকের আইন নয়, বাংলায় এখন আইনের শাসন চলছে।” শুধু তাই নয়, তৃণমূল জমানায় পুলিশের একাধিকবার আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গও তুলেছেন তিনি।
গত রবিবার গাইঘাটায় এক কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। প্রতিবেশীর বাড়ির অদূরে ওই দেহ মেলায় আতঙ্ক ছড়ায়। ধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়েছে বলে মৃতের পরিবারের তরফে দাবি করা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল রাতে পুলিশ ধৃতকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য গিয়েছিল। সেখানেই পালানোর চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত! তদন্তকারীদের দাবি, ফেরার পথে বন্দুক ছিনিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় প্রহ্লাদ। আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি চালায় পুলিশও। তাতেই মৃত্যু হয় অভিযুক্তের।
এদিন শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “কোন পরিস্থিতিতে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়? আমাদের রাজ্যে কতবার পুলিশকে গুলি চালাতে হয়েছে? আমরা দেখেছি, যখন ওয়াকফ নিয়ে আন্দোলন চলছিল পুলিশ হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা চেয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে, দোকানদারদের কাছে বলেছে শাটার তুলুন, দরজা খুলুন আমরা প্রাণে বাঁচতে চাই। পুলিশ যদি বারবার আক্রান্ত হয়, তাদের সামনে কোন পথ খোলা আছে?” তৃণমূলকে আক্রমণ করে শমীকের বক্তব্য, “প্রশাসনের রাজনীতিকরণের কতটা কদর্য রূপ হতে পারে, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দেখিয়ে দিয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় বিজেপি জয়ী মহিলা প্রার্থীদের রাত দেড়টা পর্যন্ত গণনাকেন্দ্রে বসিয়ে রেখে, সার্টিফিকেট পালটে দিয়ে তাঁদের পরাজিত ঘোষণা করে দেওয়া, যা প্রার্থী নিজেই জানেন না।”
শমীকের আরও প্রশ্ন, “গত ১৫ বছরে কত সাংবাদিক রক্তাক্ত হয়েছেন? কত সাংবাদিকদের হাত-পা ভাঙা হয়েছে? কত অভিযোগকারী, অভিযোগকারিনী নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে, যাদের কোনও খোঁজ নেই। কতজনের রহস্যমৃত্যু হয়েছে? আইনের শাসনের শিক্ষা তৃণমূল কংগ্রেসের শেখানোর প্রয়োজন নেই।”
