রাঙামাটি,,২৭ অক্টোবর-অবরোধের কারণে এখনো জিম্মি হয়ে আছেন সাজেকের বাসিন্দারা। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কর্মহীন হয়ে অলস সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। পাহাড়ে জুমের ফসল নষ্ট হচ্ছে। কারণ, হাট বসছে না, হচ্ছে না বেচাকেনা। টানা ছয় দিন ধরে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটির অবরোধে পুরো সাজেক এলাকা স্থবির হয়ে আছে। ফলে এ অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ছে। তবে আলোচনা ছাড়া এ সমস্যা সমাধানের আর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছে প্রশাসন।
অভিযোগ রয়েছে, গত সোমবার রাঙামাটির সাজেক সড়ক অবরোধের পঞ্চম দিনে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমার সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার শাহাদাৎ, রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব এবং খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মুরতজা আলী খান।
বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে টানা আড়াই ঘণ্টা আলোচনা হয়। অবরোধকারীদের পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেয় প্রশাসন। তবে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের কর্মীদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবির বিষয়ে প্রশাসন তিন সপ্তাহ সময় চায়। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা পাঁচ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় কোনো সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের পাঁচটি দাবির মধ্যে প্রায় চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। একটি বিষয়ে সামান্য বাকি রয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে আলোচনা করে বাকি বিষয়টিরও সমাধানের পথে এগোনো যাবে।’
গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা বলেন, মূল দাবি নিয়ে এখনো কোনো সমাধান হয়নি। সন্তু লারমার সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বা জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সাজেক থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
এদিকে, মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও অবরোধের সমর্থনে মাঠে নেমেছেন সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটির নেতাকর্মীরা। বাঘাইহাট-মাচালং ১৪ কিলো, ২ নম্বর কালভার্ট, গঙ্গারাম লাদুমনি বাজার, বাঘাইহাট হাজাছড়া ও ১০ নম্বরসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান অবরোধকারীরা। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। তবে অবরোধকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল অব্যাহত ছিল। সেনাবাহিনী সড়ক থেকে জ্বলন্ত টায়ার সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বা জেএসএসকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে গত ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ শুরু হয়।
এস এম/ ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::সাজেকে টানা ৬ দিনের অবরোধে স্থবির জনজীবন, নষ্ট হচ্ছে জুমের ফসল first appeared on DesheBideshe.