বাংলা লোকগানের অবিস্মরণীয় এক নাম আব্বাসউদ্দীন আহমদ। আজ তার ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠানটি হবে একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে। এতে বিশিষ্ট অতিথিদের আলোচনার পাশাপাশি থাকবে সংগীতানুষ্ঠান। একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে অনুষ্ঠানটি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ইমাসুমিন বেগম। অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট গবেষক ও সংগীতশিল্পী অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল। সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ। আলোচনা পর্ব শেষে হবে সংগীতানুষ্ঠান। এতে লোকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পীরা গান করবেন। তবে শিল্পীদের নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
বাংলার লোকসংগীতকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে আব্বাসউদ্দীন আহমদের অবদান চিরস্মরণীয়। বিশেষ করে ভাওয়াইয়া, পল্লিগীতি ও ভাটিয়ালি গানে তার অসামান্য অবদান তাকে পরিণত করেছে কিংবদন্তিতে। তার কিছু কালজয়ী গানের মধ্যে রয়েছে ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’, ‘আমার গলার হার খুলে নে’, ‘আমায় এত রাতে কেন ডাক দিলি’, ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’, ‘মাঝি বাইয়া যাও রে’, ‘থাকতে পার ঘাটাতে’, ‘বাউকুমটা বাতাসে’, ‘নদীর কূল নাই’, ‘আমায় ভাসাইলি রে’, ‘আমার হাড় কালা করলাম রে’ ইত্যাদি। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৭৯ সালে শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮১ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারে (মরণোত্তর) ভূষিত হয়েছেন। ১৯০১ সালের ২৭ অক্টোবর আব্বাসউদ্দীন আহমদের জন্ম কুচবিহারের বলরামপুরে। ১৯৫৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি প্রয়াত হন ঢাকায়।
