সিলেট ভয়েস ডেস্ক · ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:০৪ অপরাহ্ন
জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে কারিগরি ত্রুটির প্রভাবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর সিলেটে সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটের কাছে জাতীয় গ্রিডের পূর্বাঞ্চলীয় অংশে এ ত্রুটি দেখা দেয়। এতে সিলেটসহ ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সঞ্চালন লাইনে আকস্মিক ট্রিপের পর গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি বেড়ে যায়। এর ফলে একাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে উৎপাদন ইউনিটগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ শুরু হয়।
বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিডে সম্পূর্ণ বিপর্যয় এড়ানো গেলেও রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। উৎপাদন ইউনিটগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করে গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সিলেটসহ প্রান্তিক এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ঢাকা ও আশপাশের বিতরণকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছিল। গ্রিডের লোডের ভারসাম্য বজায় রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন প্রকৌশলীরা।
এদিকে, কারিগরি ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে ন্যাশনাল লোড ডেসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি)। ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করতে রিলে ফল্টের তথ্য বিশ্লেষণসহ বিস্তারিত কারিগরি প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থায় মেঘনাঘাট একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। সেখানে সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটলে আন্তঃসংযোগ লাইনের মাধ্যমে এর প্রভাব দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে আঞ্চলিক উপকেন্দ্র থেকে গ্রাহক পর্যায়ের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিপিডিবি জানিয়েছে, প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উপকেন্দ্রগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছিল। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকায় পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল করতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দুঃখ প্রকাশ করে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে বলে ওই বার্তায় জানানো হয়।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
