Published on
:
2 min read
আশিস নন্দী, গাইঘাটা
জলসা চলাকালীন গাইঘাটার কিশোরীকে ফোন করে ডেকেছিল তারই দূর সম্পর্কের আত্মীয় ধৃত প্রণব ঘোষ (নাম পরিবর্তিত)। পরিচিতের ফোন পেয়ে ওই কিশোরী এলে জলসার মঞ্চ থেকে মাত্র দেড়শ মিটার দূরে নিয়ে গিয়ে তাকে প্রথমে বেধড়ক মারধর করে প্রণব। মারের চোটে মাটিতে পড়ে গিয়ে বেঁহুশ হয়ে যায় ওই কিশোরী। সেই অবস্থাতেই তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করে প্রণব। জ্ঞান ফেরার পর ফের কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মেয়েটি চিৎকার করে উঠলে তার মাথায় সজোরে আঘাত করে খুন করে প্রণব। মৃত্যু নিশ্চিত এবং তথ্য লোপাট করতে কিশোরীর মুখ থেঁতলে দেওয়া হয়। গাইঘাটার কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ধৃতকে জেরা করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে।
ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত প্রণব দাসকে গ্রেপ্তারের পর রবিবার তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে রক্তমাখা প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করেছে গাইঘাটা থানার পুলিশ। গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার হওয়া পোশাকে লেগে থাকা রক্তের মিল পেতে সোমবার ধৃতের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বনগাঁ পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত বলেন, 'ধৃতকে জেরা করে এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
খেতমজুরের কাজ করেন খুন হওয়া কিশোরীর বাবা। টালির চালা ঘরে চার মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে অভাবের সংসার। চার বোনের মধ্যে সবার ছোট নিহত কিশোরীর ছোটবেলা থেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। তার চিকিৎসা করানো কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠায় ছোটবেলা থেকেই নিহত কিশোরীকে নিজের কাছে এনে রেখেছিলেন দিদিমা। স্থানীয় একটি স্কুলে একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী লেখাপড়া শিখে সংসারের হাল ফেরানোর স্বপ্ন দেখত বলে এ দিন কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন মা ও দিদিমা। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন ঘরের মেয়েকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন পরিবারের লোকজন। অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন প্রতিবেশীরাও। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী ওই এলাকার গ্রামগুলিতে মদ, গাঁজা ও মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। অল্পবয়সি ছেলেরা নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ায় অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।
সোমবার নিহত কিশোরীর মামার বাড়িতে সমবেদনা জানাতে আসেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। আসেন সিপিএম এবং কংগ্রেস প্রতিনিধিরাও। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, 'খুব দুঃখজনক ঘটনা। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হবে।' কংগ্রেস নেত্রী ইন্দ্রাণী দত্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'আর্থিক সহায়তা করে সন্তানহারা মায়ের মনের ক্ষত পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এক কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক সরকারের পক্ষ থেকে।'