
লালমনিরহাটে অস্তিত্বহীন বিদ্যালয়ের নামে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
নর্থবেঙ্গল একিভূত শিক্ষাকেন্দ্র। নেই নিজস্ব জমি, নেই অবকাঠামো, নেই কোনো শিক্ষার্থী। শুধুমাত্র কাগজপত্রেই বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব। অথচ বিদ্যালয়টিকে কেন্দ্র করে নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে কয়েক কোটি টাকার। ঘটনার মূল নায়ক নর্থবেঙ্গল ডিজাবেল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক সুভাষ চন্দ্র বর্মন।
জানা যায়, বিশেষায়িত বিদ্যালয় সমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল সংক্রান্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধিতা শাখার গত ১৯ মে তারিখের একটি পত্র লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত ২৮ জুন তারিখে গৃহীত হয়।
উক্ত পত্রে নর্থবেঙ্গল একিভূত শিক্ষাকেন্দ্র নামে লালমনিরহাট জেলায় ২টি বিদ্যালয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রথমটি নন-এনডিডি, ক্রমিক নং- ৫৮২, ট্র্যাকিং কোড নং- ২০২০১০০০৩৪১ এবং দ্বিতীয়টি এনডিডি, ক্রমিক নং- ১৪৪৮, ট্র্যাকিং কোড নং- ২০২০২০০০৩২৫।
সরেজমিন তথ্য সংগ্রহকালীন নর্থবেঙ্গল একিভূত শিক্ষাকেন্দ্র নামে লালমনিরহাট জেলায় কোনো বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি, অথচ কাগজপত্রে এ নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাল দেখানো হয়েছে ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ এবং শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেখানো হয়েছে ১৪ জনকে।
প্রকৃতপক্ষে শিক্ষক/কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেয়ার নামে ৩৯ জনের নিকট থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। ৩৯ জনের অধিকাংশই পৃথক পৃথক ভাবে জানেন যে, তিনি নিয়োগ প্রাপ্ত উক্ত ১৪ জনের একজন। জালিয়াতি ও প্রতারণার এ নজীরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছেন নর্থবেঙ্গল ডিজাবেল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক সুভাষ চন্দ্র বর্মন।
সুভাষ চন্দ্র বর্মন শিক্ষক/কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেয়ার নামে বিশ্বজিৎ কুমার রায়, কোহিনুর বেগম, জগদীশ চন্দ্র বর্মন, সুমন কুমার রায়, মোছাঃ আয়শা সিদ্দিকা, ইতিমালা রায়, মোছাঃ আঞ্জুমান আরা বেগম, মোছাঃ মুনিরা শামা, মোঃ বাবুল মিয়া, মোঃ আসাদুজ্জামান, কাঞ্চন বিশ্বাস, সুজন কুমার রায়, মোঃ কামরুজ্জামান বাবু, মোঃ আনিছুর রহমান, মায়া রানী, মোঃ মোরশেদ কামাল, সঞ্জিত বর্মন, নিমাই কান্তি রায়, বিধান চন্দ্র রায়, অঞ্জলী রানী, অর্পনা বিশ্বাস, তাসমিন আক্তার, শামীমা আক্তার, প্রিয়াংকা রায়, নিমাই চন্দ্র, রোকসানা আক্তার, মোঃ আরিফুউজ্জামান, মায়া রানী, মোঃ রেজাউল করিম, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, শ্রী সোহাগ চন্দ্র, শ্রী মতি তপতী রানী, মোঃ মাকসুদার রহমান বাবু, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ আব্দুল মতিন, স্বরস্বতী রানী রায়, সবুজ চন্দ্র, জান্নাতুল ফেরদৌসী এবং আদুরী রানী রায় -এর নিকট থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও তারা সুভাষ চন্দ্র বর্মনের কাছ থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রই পাননি, এমনকি তাদের অনেকেই জানেন না যে তাদেরকে কোন বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত কোহিনূর বেগম বলেন আমি নর্থ বেঙ্গল একিভূত শিক্ষা কেন্দ্রে আছি। আপনার প্রতিষ্ঠান কোথায় এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আপাতত নর্থবেঙ্গল বাক ও শ্রবন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছি।
তথ্য সংগ্রহকালে তাদের মধ্যে আবার কেউ কেউ নিজেকে নর্থবেঙ্গল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক/কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিলেও তারা উক্ত বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যেখানে নর্থবেঙ্গল একিভূত শিক্ষাকেন্দ্রের কোন অস্তিত্বই নেই সেখানে সুভাষ চন্দ্র বর্মনের আশ্বাসে এমপিওভূক্তির প্রহর গুনছেন জাল কাগজে ভুয়া নিয়োগ প্রাপ্ত এসব শিক্ষক/কর্মচারীরা।
আর নর্থবেঙ্গল একিভূত শিক্ষা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্র বর্মন বলেন,আমি এই প্রতিষ্ঠানটি করতে চেষ্টা করেছি। পরে তা বাদ দিয়ে দিয়েছি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন কর্তৃক দায়িত্ব প্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লালমনিরহাট সদর মনোনীতা দাস জানান, এ ধরনের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন অস্তিত্ব পাইনি।
