অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ৪:৪২ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে মারা যান তিনি। কিন্তু মৃত্যুর পর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত নানা বাধা-বিপত্তিতে তার দাফন আটকে ছিল।
মুক্তিযোদ্ধার স্বজনদের অভিযোগ, জামায়েতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের বাধায় দাফন করতে পারেননি। পরে শনিবার গভীর রাতে পিরোজপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়; মানুষের অভাবে পরিবারের নারী সদস্যরাই অংশ নেন দাফন কাজে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে চলছে সমালোচনা ও প্রতিবাদ। গর্জে উঠলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রানাও; প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে সোহেল রানা লেখেন, ‘একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাকে কবর দিতে বাধা সৃষ্টি করল স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। আর হারিকেন জ্বালিয়ে তার আলোতে আলোকিত করে তার কন্যাসন্তান নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে বাবার কবর তৈরি করল। আগের কবরটি স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে।’
ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় শক্তি নাকি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে। কোনো আলামত তো দেখা গেল না, যারা বাধা দিয়েছিল তাদেরকে সর্বসমক্ষে গুলি করে হত্যা করা উচিত ছিল। সরকারের কাছে এর সঠিক জবাব চাই।’
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি এমন আচরণে নিজের কষ্টের কথাও তুলে ধরেছেন সোহেল রানা। লিখেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা তো জীবনের শেষ প্রান্তে। কিন্তু আমরা বোধহয় মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়েছি। নইলে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ—কোনোটাই তো চোখে পড়ছে না।’
এ ধরনের ঘটনা মুক্তিযোদ্ধাদের মনে গভীর কষ্ট তৈরি করে উল্লেখ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। পোস্টের শেষে সোহেল রানা লেখেন, ‘না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার আগে এমন সংবাদ আমার মতো অন্য মুক্তিযোদ্ধাদেরও রক্তক্ষরণ করে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, সবাই জেগে ওঠো। এবার আর ক্ষমা নয়।’
খুলনা গেজেট/উউরা
