পিরোজপুরের রাজনীতিতে পরিচিত এলিজা জামান বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ১৯৯৬ সাল থেকে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন দল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। এবার ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।
বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে এলিজা জামানকে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, দলীয় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার জাতীয় সংসদে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার সামনে। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সোমবার (২৬ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান।
তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার খবর প্রকাশের পর পিরোজপুরের স্থানীয় মানুষের মধ্যে তাকে নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কে এই এলিজা জামান, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পর্ক কত দিনের, আর দলের জন্য তার ত্যাগ কতটা?
এলিজা জামানের বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা গ্রামে। তার বাবা সরদার সুলতান মাহমুদ কনভেনশন মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাবার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পরিসর থেকে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয়ে উঠে আসা এলিজা জামান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে সক্রিয়।
জানা গেছে, ১৯৯৬ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ ও ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীও হয়েছিলেন তিনি।
রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বেও ছিলেন এলিজা জামান। ২০০৩ সালে জাতীয় মহিলা সংস্থার পিরোজপুর জেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একই বছর শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক পান। পরের বছর সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি গত ১ অক্টোবর পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগে আসনটি শূন্য হয়। ওই আসনে উপনির্বাচনের তপশিল অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২৮ অক্টোবর আপিল করা যাবে। ২৯ অক্টোবর আপিল নিষ্পত্তি হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ নভেম্বর এবং প্রতীক বরাদ্দ ২ নভেম্বর। ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ নভেম্বর।
