শিল্পীর সৃষ্টিতে সাধারণত বাস্তবের চেয়ে কল্পনার ছাপ বেশি থাকে। গল্প, উপন্যাস, কবিতাই হোক কিংবা চিত্রশিল্প, ভাস্কর্য – সবই কল্পনার আধার। এও অবশ্য বলা হয়, যে কোনও সৃষ্টিশীল কাজ আসলে সমাজের দর্পণ। তাতে কতটা বাস্তব, কতটা ভাবনা, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। আপাতত সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছেন সাম্প্রতিক এক গবেষণা। চিরস্মরণীয় চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগের বিখ্যাত ‘স্টারি নাইট’ ছবিটির জন্মসূত্রে একেবারে টান মেরেছে! গবেষকদের দাবি, ‘স্টারি নাইট’ মোটেই অলীক কল্পনা থেকে আঁকা নয়, বরং খুব খুঁটিয়ে রাতের আকাশে নক্ষত্রের অবস্থান দেখে তবেই তা ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ডাচ শিল্পী। ফলে ভ্যান গগের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে নতুন করে আলোচনার অবকাশ তৈরি হয়েছে।
ঘন নীলচে প্রেক্ষাপট। তাতে হলুদ আর সাদা রং দিয়ে ভরা তারার মেলা। একনজরে দেখলে মনে হবে, তারাভরা আকাশ। অসীম আকাশকে যে এভাবে ক্যানভাসেও ধরা যায়, ভিনসেন্ট ভ্যান গগের এই ছবিটি না দেখলে ধারণাই হয় না। ১৮৮৯ সালের জুলাই মাসে তেলরঙে আঁকা ওই ছবির গুরুত্বই বলুন বা শিল্পমূল্য, অসীম। আজও হাঁ করে তা তাকিয়ে দেখেন ছবিপ্রেমীরা। এই ছবি গগের সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত বলেই জানতেন সকলে। কিন্তু ১২৭ বছর পর জনসাধারণের সেই জানা তথ্য একেবারে ঘেঁটে দিল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকা ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে’ প্রকাশিত গবেষণামূলক প্রবন্ধ।
বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, তাঁর ওই ছবির অনুপ্রেরণা হায়াডিস নক্ষত্রমণ্ডলী। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্ররাজি। সেখানে তারাগুচ্ছের অবস্থানের সঙ্গে হুবহু মিলে যায় ‘স্টারি নাইটে’ তারার ছবি! এই গবেষণার জন্য একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ-কোণের পরিমাপের সঙ্গে ছবিতে তারার অবস্থান একেবারে এক। শুধু তাই নয়, রাতের আকাশে খালি চোখে চাঁদ, শুক্রের অবস্থানও ছবিতে ধরে রেখেছেন ভ্যান গগ।
দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থার দাবি, মোটেই কল্পনা নয়, আকাশে বিস্তৃত নক্ষত্ররাজির নিখুঁত অবস্থান দেখেই ‘স্টারি নাইট’ এঁকেছিলেন ভ্যান গগ। শিল্পসৃষ্টির নেশায় একসময় মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছিলেন ডাচ শিল্পী। সেসময় তিনি ছিলেন অ্যাসাইলামে। শোয়ার জায়গা থেকে একটুকরো জানলা দিয়ে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে নিবিড় ভাবে দেখতেন নক্ষত্রের অবস্থান। সেটাই তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন ক্যানভাসে।
বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, তাঁর ওই ছবির অনুপ্রেরণা হায়াডিস নক্ষত্রমণ্ডলী। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্ররাজি। সেখানে তারাগুচ্ছের অবস্থানের সঙ্গে হুবহু মিলে যায় ‘স্টারি নাইটে’ তারার ছবি! এই গবেষণার জন্য একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ-কোণের পরিমাপের সঙ্গে ছবিতে তারার অবস্থান একেবারে এক। শুধু তাই নয়, রাতের আকাশে খালি চোখে চাঁদ, শুক্রের অবস্থানও ছবিতে ধরে রেখেছেন ভ্যান গগ। তাই বিজ্ঞানীদের দাবি, এখানে কল্পনা নয়, ‘স্টারি নাইট’ আসলে বাস্তবের মহাকাশ।
