Published on
:
2 min read
এই সময়, চন্দ্রকোণা: জমিতে চাষ করে আর ছোট্ট একটা কৃষি ভাণ্ডারের দোকান চালিয়ে ৭৫ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন যুবক। মোবাইলের একটি নোটিফিকেশনেও রাতারাতি অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গেল ৭৫ হাজার টাকা। ঘটনাটি ঘটেছে চন্দ্রকোণায়। ইতিমধ্যেই যুবকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে তদন্ত শুরু করেছে সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা-১ নম্বর ব্লকের খড়কপুর গ্রামের বাসিন্দা জয়ন্ত পলমল চাষবাস করেই সংসার চলে। গ্রামে একটি ছোট কৃষি ভাণ্ডারের দোকানও রয়েছে তাঁর। চাষ করার জন্য ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা কৃষিঋণও নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জয়ন্ত। সেই ঋণ শোধ করার জন্য ৭৫ হাজার টাকা ব্যাঙ্কে জমিয়েছিলেন তিনি।
জয়ন্তর অভিযোগ, ২৪ অক্টোবর রাতে হঠাৎ তাঁর মোবাইল ফোনে 'ইনস্ট্যান্ট আপডেট' লেখা একটি নোটিফিকেশন আসে। বিষয়টি বুঝতে না পেরে তিনি ফোন বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফোন বন্ধ করতে পারেননি বলে অভিযোগ। চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ায় ফোনটি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। রাতে ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন জয়ন্ত। সকালে উঠে অনলাইনে একজনকে টাকা পাঠাতে গিয়ে তিনি দেখেন অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স নেই। এরপর লেনদেনের বিবরণ পরীক্ষা করে জানতে পারেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৭৫ হাজার টাকা অন্যদের অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে।
জয়ন্তর অভিযোগ, গুজরাটের বাসিন্দা শচীন কুমার নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ৫৩ হাজার টাকা এবং মহম্মদ সালেম নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। আরও দু'জনের অ্যাকাউন্টে ২ হাজার টাকা গিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এ ছাড়াও কয়েকটি লেনদেনের চেষ্টা হলেও সেগুলি সফল হয়নি বলে জানান জয়ন্ত।
তাঁর প্রশ্ন, কোনও ওটিপি না দিয়েও কী ভাবে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা চলে গেল? ঘটনার পরে পুলিশ, সাইবার ক্রাইম বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। ঘটনাটি জানতে পেরে আতঙ্কিত এলাকার মানুষজনও। ব্যাঙ্কে টাকা জমা রেখেও যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা। যদিও কী ভাবে টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযোগের তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা করছেন জয়ন্ত ও তাঁর পরিবার।
